শিরোনাম
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা কালাপাকুজ্জা ইউনিয়নে হাতপাখার প্রার্থী জসিম উদ্দীন এর ব্যাপক গণসংযোগ নির্বাচনী প্রচারণায় জুঁই চাকমার রাঙ্গামাটি শহরে জনসংযোগ ঝুঁকির মধ্যে পাঠদান: থানচির টুকটং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আতঙ্কে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পাহাড়ে ষড়যন্ত্রের শেষ নেই সাবধান থাকতে হবে—নির্বাচনী পথসভায় ওয়াদুদ ভূইয়া রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক অরো প্রশস্ত হচ্ছে রাঙ্গামাটির ভোটের মাঠে আলো ছড়াচ্ছেন একমাত্র নারীমুখ জুঁই চাকমা রাঙ্গামাটির পাংখোয়াপাড়ার গোড়াপত্তন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপহারেই রাঙ্গামাটিতে ১৩টি ব্যালট বক্সে লক করা হলো ৫ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোটার বাংলাদেশি গণতন্ত্রের জন্য ধর্মের ফাঁদ পাতছে জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহে জামিন ছাড়াই কারামুক্ত হত্যা মামলার তিন আসামি

টেংরাটিলা বিস্ফোরণ,নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় জয় পেতে যাচ্ছ বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে সংঘটিত ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (৫১৬ কোটি টাকা, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে) ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (ইকসিড)।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বৃহস্পতিবার ইকসিডের এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেওয়া রায়ে ইকসিড গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য আরও ২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে।

সুনামগঞ্জের ছাতকে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরের বছর কূপ খননের মাধ্যমে ১ হাজার ৯০ মিটার থেকে ১ হাজার ৯৭৫ মিটারের মধ্যে নয়টি গ্যাস স্তর শনাক্ত করা হয়। এখান থেকে উত্তোলিত গ্যাস ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলে সরবরাহ করা হতো। প্রায় ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পর পানি উঠে আসায় কূপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গ্যাসক্ষেত্রটি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। খনন কাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ জন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রবাংলা, তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা করে পেট্রোবাংলা এবং নাইকোর ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস বিল পরিশোধ বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাইকোর্ট বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গেলে সেখানেও বাংলাদেশের পক্ষেই রায় আসে। তবে আটকে রাখা গ্যাস বিল এবং ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগে নাইকো ২০১০ সালে ইকসিডে দুটি মামলা করে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের এক রায়ে ইকসিড পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেয়। ফের ২০১৬ সালে নাইকোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা (প্রায় ১১৭ কোটি মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করে ইকসিডে মামলা করে বাপেক্স।

সেই মামলার চূড়ান্ত আদেশে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ এলো। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছে, নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনাতেই খননকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়ার কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে নাইকো সরাসরি এসব ঘটনার জন্য দায়ী।

এই গ্যাসক্ষেত্রটি ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম (টেংরাটিলা) নামে দুটি অংশে বিভক্ত। অগ্নিকাণ্ডে ছাতক পশ্চিম অংশের একটি স্তরের গ্যাস পুড়ে গেলেও অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্ব অংশের গ্যাস মজুদ অক্ষত রয়েছে। এই গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদ ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বলে বিবেচনা করা হয়। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত রয়েছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন আইনজীবীদের মতামত নিয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions