শিরোনাম
২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৩৯ সুবিধাজনক সময়ে মোদি-তারেক বৈঠক: ত্রিবেদী অর্থসংকটে ৮৩ লাখ শরণার্থীর সহায়তা বন্ধের শঙ্কা: জাতিসংঘ বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় পৌঁছেনি ৯০ শতাংশ শৌচাগার, পৌঁছেছে শুধু বঞ্চনা ঋতুপর্ণা চাকমার মতো খেলোয়াড়রা আমাদের গর্ব : ওয়াদুদ ভূইয়া ইউরেনিয়ামবাহী বাংলাদেশের বিমান আটকে দেয়ার নেপথ্যে কী, জানাল পাকিস্তান যেখানে ২০০ বছর পর কার্যকর হচ্ছে কোনও নারীর মৃত্যুদণ্ড! অনিবন্ধিত অনলাইন ও নিউজ পেজের বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী একনেকে ১৫,৮২৩ কোটি টাকায় ১৩ প্রকল্প অনুমোদন কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা

বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় পৌঁছেনি ৯০ শতাংশ শৌচাগার, পৌঁছেছে শুধু বঞ্চনা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ দেখা হয়েছে

বান্দরবান:- পাহাড়ের দুর্গম জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া এখনো অনেকটাই কাগজে-কলমে। বান্দরবানের দুর্গম এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশেই পৌঁছায়নি নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা। ফলে মৌলিক এই নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদের হাজারো মানুষ।

সভ্যতার এই সময়ে এসেও বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে নিরাপদ স্যানিটেশনের দেখা মেলেনি। শৌচাগার নেই, নেই নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও। ফলে খোলা আকাশের নিচেই মলমূত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা। আর দুর্গমতার অজুহাতে সরকারি নানা মৌলিক সুযোগ-সুবিধাও এখনো পৌঁছায়নি এসব জনপদে। বছরের পর বছর ধরে পাহাড়ের প্রত্যন্ত মানুষের জীবন যেন উন্নয়নের মূলধারার বাইরে।

আলীকদমের সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার দুর্গমে অবস্থিত ক্রাসিং পাড়া। যাতায়াতের একমাত্র নৌকা ও তৈনখাল পেরোলে কয়েক ঘণ্টার হাঁটার পথ। এলাকাটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের গহীনে আর চারপাশে সবুজে মোড়ানো। গ্রামের প্রায় ২৫ পরিবারে ২৫০ জনসংখ্যার মানুষের বসবাস। কিন্তু কোনো বাড়িঘরে নেই স্যানিটেশন ব্যবস্থা। ভোর হতেই শুরু হয় খোলা আকাশের নিচে মল-মূত্র ত্যাগ। এতে দুর্গন্ধ আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু এই একটি গ্রাম নয়, ওই এলাকার গহীনে থাকা মেথন পাড়া, বলয় পাড়া, মেনরাই, দরপাড়া ও চংরাই পাড়াসহ আরও ছয়টি গ্রামে নেই কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা। এতে নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে পড়েছে এই দুর্গমের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়া ও জনপদগুলোতে নিরাপদ শৌচাগারের সংকট দীর্ঘদিনের। কোথাও নেই কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাধ্য হয়েই খোলা জায়গাকে ব্যবহার করছেন। দুর্গমতার কথা বলে সরকারি বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে তাদের পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা থাকলেও মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেটিকে স্থায়ী অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বান্দরবানে সাতটি উপজেলার দুর্গম এলাকায় অনেক পাড়া ও গ্রামে নিরাপদ শৌচাগারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। দুর্গম পাহাড়, বিচ্ছিন্ন জনপদ আর দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এসব এলাকায় নিরাপদ শৌচাগার নির্মাণ ও স্যানিটেশন অবকাঠামো গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে অনিরাপদ শৌচাগারের বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে বসবাসকারী মানুষের জন্য নিরাপদ শৌচাগার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো অনেকটা অধরাই। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এসব এলাকায় স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী সংকট। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দুর্গমে নারী, শিশু ও বয়স্করা। দুর্গম এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক পরিবারকে এখনো নিরাপদ স্যানিটেশনের বাইরে থাকতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে বঞ্চিত হচ্ছে মৌলিক নাগরিক সেবা পাওয়ার থেকেও।

ভোর সকাল সূর্যাস্ত ওঠার আগে ক্রাসিং পাড়া গ্রামের মানুষজন একটি বোতল নিয়ে জঙ্গলের দিকে ছুটে যাচ্ছে। একে একে ছোট থেকে বড় সকলেই স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে ছুটে যাচ্ছে মল-মূত্র ত্যাগ করতে। এসব দুর্গমের অধিকাংশ মানুষ ম্রো, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী। না পৌঁছেছে শিক্ষা, না ছুঁতে পেরেছে আধুনিক সভ্যতা। যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত হওয়ায় এখনো গড়ে উঠতে পারেনি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

ক্রাসিং পাড়া বাসিন্দা সিংরাও ম্রো, লংচ্র ম্রো বলেন, এই দুর্গমে কোনো সরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি। সরকার উন্নয়নের কথা বলা হলেও এখনো দুর্গম মানুষজন সে আগের যুগে রয়ে গেছে। যার কারণে সকাল হলে খোলা আকাশের নিচে মল-মূত্র ত্যাগ করছে। আর বর্ষা হলে সেসব ময়লা ঝিরিতে মিলিত হয়ে ছেলেমেয়েরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

বলয় পাড়া কারবারি রংলং ম্রো বলেন, এখানে ৬টি গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার লোক বসবাস করে। কিন্তু কোনো পরিবারে টয়লেট নেই। সকাল হলে জঙ্গলে মল-মূত্র ত্যাগ করতে যায়। সরকার বা জনপ্রতিনিধিরা কোনো কিছু দিচ্ছে না বলে উন্নয়নের ছোঁয়াও লাগে না।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্গমে এখনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা পৌঁছায়নি মানে সেটি সরকার বা জনপ্রতিনিধির দুর্বলতা। কেননা সেসব দুর্গমে স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে নানা রোগে মহামারি পরিস্থিতি তৈরি হবে। আর স্যানিটেশন ব্যবস্থা না করা গেলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।

আলীকদম নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, দুর্গমতা হওয়াতেই এলাকাগুলোতে এখনো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পৌঁছায়নি। যার ফলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে কোনো বরাদ্দ আসলে এসব দুর্গমে স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ আনা হয়েছে আর তালিকা করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে চাহিদা চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেটি হয়ে গেলে দুর্গম এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করেন তিনি।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions