শিরোনাম
৪ লাখ ৪০ হাজার কোটির খেলাপি ঋণ ১০ ব্যাংকে, কোথায় গেলো এত টাকা? পুলিশের ওপর হামলা ঠেকাবে কে বাড়তি সবজির দাম, স্বস্তি নেই মাছ, মাংস ও ডিমে ছয় মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ খাগড়াছড়িতে বাড়ছে ‘গ্যাং’ উদ্বেগ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করলো সরকার কাপ্তাইয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপেন তালুকদারকে সংবর্ধনা: যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা রাঙ্গামাটিতে ১০ ঘণ্টায় হারানো আইফোন উদ্ধার করে পর্যটকের হাতে তুলে দিলো ১৮ এপিবিএন সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় বাকস্বাধীনতা হরণের ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে: টিআইবি ভারতের সঙ্গে করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, দেশের স্বার্থবিরোধী হলেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত : চিফ হুইপ

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করলো সরকার

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ দেখা হয়েছে

রাঙ্গামাটি ডেস্ক:- পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, টেকসই নিরাপত্তা বিধান, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সরকার ৩টি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সভাপতি করে নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরামর্শক কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্বাহী কমিটির কাছে সুপারিশ দিতে হবে। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাহী কমিটি তিন মাসের মধ্যে জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া তৈরি করে জাতীয় কমিটির কাছে দেবে। এরপর জাতীয় কমিটি তা চূড়ান্ত করবে।

জাতীয় কমিটিতে অর্থ ও পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ভূমি, আইন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীকে সদস্য করা হয়েছে। এ ছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন পার্বত্য জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং এনএসআই মহাপরিচালককে সদস্য করা হয়েছে।প্রবাসী নেটওয়ার্কে যোগদিন

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টাকে প্রধান সমন্বয়ক এবং ডিজিএফআই মহাপরিচালককে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

জাতীয় কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, আন্তসংস্থা কার্যক্রম তদারকি এবং নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থাগুলোর কার্যপরিধি নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় কর্মকৌশল চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থাও করবে এই কমিটি।

অন্যদিকে নির্বাহী কমিটিতে ভূমি, আইন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, এনএসআই মহাপরিচালক, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অপারেশনস ও পরিকল্পনা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম) সদস্য হিসেবে থাকবেন।

এই কমিটিতে ডিজিএফআই মহাপরিচালককে প্রধান সমন্বয়ক এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালককে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

নির্বাহী কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং সব সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংস্কার এবং নতুন আইন ও বিধি প্রণয়নের সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

পরামর্শক কমিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান, ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি থাকবেন।

এ ছাড়া বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমাকে সদস্য করা হয়েছে।

এই কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় নির্বাহী কমিটির কাছে সুপারিশ দিতে হবে।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুন

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিন কমিটিই প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা বা প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সদস্য কিংবা সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন সরকারের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পার্বত্যনিউজের সম্পাদক এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ বলেছেন, এই কমিটি বর্তমান সরকারের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অতীতে কোন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানে এত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেনি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এবং বর্তমান বিরোধীদল উভয় পার্বত্য শান্তিচুক্তি পুনঃমূল্যায়নের অঙ্গীকার করেছিলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে।

এই কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক জটিল সমস্যা সমাধান করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই কমিটির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পুনঃমূল্যায়নের ব্যাপারে তারা একটি ইতিবাচক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions