শিরোনাম
বান্দরবানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছে ১৩ দোকান, দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি চট্টগ্রামের কারাগারে ১৯৮ বিদেশি, কীভাবে দেশে এলেন তারা? অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল ও গুজব ছড়ানো পেজ বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের রাঙ্গামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি-সেবীসহ গ্রেপ্তার ১৮ ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করবে পিডিবি ২৪ ঘণ্টায় ৩টি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন,জামায়াত-এনসিপির আলাদা প্রার্থী, ‘ফায়দা’ পাবে বিএনপি? ভারত থেকে পাইপলাইনে দিনাজপুরে পৌঁছালো ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ২০ হাজার কোটি প্রস্তুত: বন্ধ কারখানা কেন এক টাকাও পাচ্ছে না? রাজনৈতিক কারণে ৭ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি দাবি মাহদী আমিনের, দ্বিমত টিআইবির

চট্টগ্রামের কারাগারে ১৯৮ বিদেশি, কীভাবে দেশে এলেন তারা?

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- ইয়াবা ও কোকেনের মতো মাদক পাচার থেকে শুরু করে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিভাগের আটটি কারাগারে ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ৩০ জন। বাকি ১৬৮ জন হাজতি হিসেবে বন্দি এবং তাদের মামলার বিচার চলছে।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারের মধ্যে আটটিতে বিভিন্ন দেশের এসব নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমার, চীন, নাইজেরিয়া, লাওস ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।

সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নগরের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে বিদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন কক্ষে রাখা হয়েছিল। ওই স্থান থেকে অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়। চাকরির প্রলোভন, অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

কক্সবাজারেও অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের এবং একজন তাইওয়ানের নাগরিক।

পুলিশের অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ ও যোগাযোগের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

ইউপিএসের ভেতর ৩.৯ কেজি কোকেন
চট্টগ্রামে বিদেশি নাগরিকদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আলোচনায় মাদক পাচারের ঘটনাও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দা, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বাহামা দ্বীপপুঞ্জের গ্র্যান্ড বাহামা দ্বীপের নাগরিক স্ট্যাশিয়া শ্যান্টিয়া রোলকে ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম কোকেনসহ আটক করা হয়।

৫৩ বছর বয়সী ওই নারীর কাছে থাকা একটি কম্পিউটার ইউপিএসের ভেতর থেকে কোকেনের চালানটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় মামলা করা হয়। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন স্ট্যাশিয়া শ্যান্টিয়া রোল।

ওই কোকেন চালান তদারকিতে জড়িত থাকার অভিযোগে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দুই নাইজেরিয়ান নাগরিক আফিজ ওয়াহাব ও ইকোচুকু এনওয়াগডকে গ্রেফতার করা হয়। তারা ফুটবল খেলোয়াড় এবং দেশের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলতেন। পুলিশের অভিযোগ, ফুটবল খেলার আড়ালে তারা মাদক পাচারে জড়িত ছিলেন।

কোন কারাগারে কত বিদেশি
চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয় সূত্র জানায়, বিভাগের ১২টি কারাগারের মধ্যে আটটিতে ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৮ জন হাজতি এবং ৩০ জন কয়েদি।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৩ কয়েদিসহ ৮৩ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন। কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন ২ জন, কক্সবাজার কারাগারে ৬১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে ১ জন, নোয়াখালী কারাগারে ১ জন, ফেনী-১ কারাগারে ৩ জন, রাঙ্গামাটি কারাগারে ২ জন এবং বান্দরবান কারাগারে ৪৫ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন।

কারা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব বন্দির বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের নাগরিকদের বড় একটি অংশ মাদক মামলার আসামি বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া বলেন, ‘মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে অনেক বিদেশি বন্দি বিভাগের কারাগারগুলোতে রয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার, চীন, নাইজেরিয়া, লাওস, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছে। মিয়ানমারের বন্দিদের মধ্যে বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি।’

চট্টগ্রাম বিভাগের কারাগারে বন্দি বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কেউ মাদক মামলায়, কেউ অনলাইনভিত্তিক প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিচারাধীন। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশিদের জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক অভিযানের ঘটনায় সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে অপরাধের ধরন ও বিস্তৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions