
রিপন মারমা,কাপ্তাই,রাঙ্গামাটি:- দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত কর্ণফুলী নদীর অমূল্য মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাপ্তাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্বুদ্ধকরণ সভা। নদীদূষণ রোধ এবং অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করে মা-মাছ রক্ষায় স্থানীয় অংশীজনদের মাঝে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।মৎস্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রামের উদ্যোগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় এই সভার আয়োজন করা হয়। রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তর বাংলাদেশের মৎস্য পরিকল্পনা ও জরিপ বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাহেদ আলী বলেন, “হালদা ও কর্ণফুলী নদী আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই নদীর সুরক্ষা কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না; এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।”
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের মৎস্য বিভাগের আহবায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য বিল্টু চাকমা। তিনি নদী সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কঠোর নজরদারির ওপর জোর দেন।এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, কাপ্তাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. এনামুল হক হাজারী, মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)-এর প্রকল্প পরিচালক মো. ইউসুফ আলী, কাপ্তাই উপজেলা সহকারী তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেন এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দিয়ে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন কাপ্তাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মো. এরশাদ বিন শহীদ।হালদা ও কর্ণফুলী নদী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের আধার—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বক্তারা বলেন, মাছের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নদীদূষণ এবং সব ধরনের অবৈধ মাছ শিকার অবিলম্বে বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।এই ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী সভাটি কাপ্তাইয়ের স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সচেতন মহলে নদীর সুরক্ষায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।