
ডেস্ক রির্পোট:-পাহাড় ও হ্রদবেষ্টিত জেলা রাঙ্গামাটির ভাসমান হাট ‘সমতাঘাটে’ মৌসুমী ফল তরমুজে ভরপুর। চাহিদা না থাকায় দামে ধ্বস নেমেছে তরমুজের। তবে রমজানের শুরুতে ফলটির দাম চড়া থাকলেও রমজান শেষে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে কৃষকরা কিছুটা শঙ্কিত হলেও লোকসানের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
গত বুধবার সরেজমিনে শহরের বনরূপা বাজারের সমতাঘাটে গিয়ে দেখা যায়, হ্রদের বুকে তরমুজ বোঝাই নৌকার ভিড়। তবে রমজানে যে তরমুজ আকারভেদে প্রতি পিস ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা মাত্র ৪০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষক কিছুটা হতাশ হলেও বাজারের ধরণ যে এমনই তা একরকম মেনেই নিয়েছেন তারা। তবে তেল সংকটে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে তরমুজের বাজারে। এমনটাই বলছেন মৌসুমী ফল ক্রেতা-বিক্রেতারা।
রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রায় সাত হাজার ২০০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় পাইকারি ক্রেতা আব্দুল মজিদ বলেন, তরমুজের দাম এখন একদম পড়ে গেছে, এবার এখন পর্যন্ত পাঁচ চালান পাইকারি কিনে খুচরা বিক্রি করেছি। তাতে দু’বার লোকসান হয়েছে। আজকের বাজারে ছোট তরমুজ ২৫০ পিস কিনেছি ১০ হাজার টাকায়। এগুলো ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত খুচরা বিক্রি হবে। এরপর পঁচা ও সাদা হলে সেগুলো ফেলে দিতে হবে। এখন খুচরা বিক্রিতে খুব বেশি লাভ করা যায়না তরমুজে। আবার যদি বৃষ্টি হয় তাহলে একেবারে শেষ ব্যবসা।
জেলার লংগদু উপজেলার কাট্টলী থেকে মৌসুমী ফলের পাইকারি হাট সমতাঘাটে তরমুজ নিয়ে এসেছেন তরুণ কৃষক সমর কান্তি চাকমা। এবছর ৭ শ থালা তরমুজ চাষ করে এখন পর্যন্ত তিন দফা ফলন বিক্রি করেছেন ১২শ পিস। দাম ছিল প্রতিপিস ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। আজকের বাজারে সাড়ে ৪শ পিস তরমুজ নিয়ে এসেছেন। দাম চাইছেন প্রতিপিস ১৫০ টাকা হারে। কিন্তু ১০০ টাকার বেশি কেউ বলছেনা। ১২০ টাকা হলেও ছেড়ে দিতেন তিনি এমনটাই জানালেন এই কৃষক।
কৃষক সমর কান্তি আরো বলেন, তরমুজ চাষে পরিশ্রম বেশি হয় । সার, কিটনাশক ও পানি দিতে হয় নিয়মিত এতে খরচও অনেক বেড়ে যায়। এখন বাজারে তরমুজে ভরপুর। কিন্তু বাইরের কোনো পাইকারি ক্রেতার দেখা নাই। রাঙামাটির তরমুজ আর সর্বোচ্চ ১০ দিন পাওয়া যাবে। এরপর শহর থেকে রাঙামাটির বাজারেও তরমুজ এসে যাবে।
পাইকারি বিক্রেতা মো. রাসেল গতকাল থেকে সমতাঘাটে তরমুজ নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায়। তিনি বলেন, আমি ৪শ পিস তরমুজ নিয়ে গতকাল থেকে বসে আছি। কৃষক থেকে কিনে এই বাজারে আনা পর্যন্ত প্রতিপিস তরমুজের পেছনে খরচ পড়েছে ১৪০ টাকা। এখন পাইকারি ক্রেতারা দাম বলছেন ১০০ টাকা। গতকাল ১২০ টাকা পর্যন্ত বলেছিল।
তিনি আরো বলেন, তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাইরের পাইকাররা আসেনা এখন। স্থানীয় বাজারেই খুচরা বিক্রি করেন পাইকাররা। ফলে চাহিদা কমে গেছে। আমি বাগানসহ ঠিকা কিনেছিলাম। এভাবে কিনলে রিস্ক বেশি থাকে। এবার প্রথম দিকে কিছু লাভ হয়েছিল, এখন পুঁজি নিয়ে টানাটানি অবস্থা।
রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ বছর আবহাওয়া ভালো হওয়ার কারণে তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে রাঙ্গামাটির বাজার তরমুজে ভরে গেছে। এ বছর চাষিরা আগাম জাতের কিছু তরমুজের চাষ করেছেন। এতে করে বাজারে দামও ভালো পেয়েছেন চাষিরা। তবে এখন বাজারে তরমুজ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমে গেছে।সুত্র পাহাড়২৪