শিরোনাম
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে পাচারকালে বিরল ‘মালায়ন নাইট হিরোন’ উদ্ধার শহীদ জিয়ার সমাধিতে রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদল, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সবার মূল্যায়নের আশ্বাস রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির অপসারণ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, প্রশাসনিক দপ্তরে তালা হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প সড়কে ভয়ংকর প্রক্সি বাহিনী চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের গোডাউন,ধরাছোঁয়ার বাইরে – মূল হোতারা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ভাঙচুর, আগুন, নিহত ৩ হামে মৃত্যুর মিছিল,টিকা কিনেনি অন্তর্বর্তী সরকার, এখনো তদন্ত শুরু হয়নি, দেড় মাসে ৩১৭ শিশুর মৃত্যু চট্টগ্রামে পিস্তল-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪, তিনজন অস্ত্র ব্যবসায়ী জামিন জালিয়াতি,বেরিয়ে গেলেন বান্দরবানের‘কুকি-চিনের’ পোশাক সরবরাহকারী মামলার আসামি

হামে মৃত্যুর মিছিল,টিকা কিনেনি অন্তর্বর্তী সরকার, এখনো তদন্ত শুরু হয়নি, দেড় মাসে ৩১৭ শিশুর মৃত্যু

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৩২ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- দেশ জুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। থামছে না শিশু মৃত্যুর মিছিল। বলা হচ্ছে- হামের টিকা না পাওয়া শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দেশে হঠাৎ কেন এই পরিস্থিতি হলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হামের প্রয়োজনীয় টিকা না কেনার কারণে অনেক শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি। যার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশে গুরুতর এই স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে এখনো কোনো তদন্ত শুরু হয়নি বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নির্বাচিত সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে টিকা কার্যক্রম শুরু করলেও আগের ঘাটতির কারণে এখন প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশু ও নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে এমন শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে সারা দেশে ৩১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৫৪ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৬৩ জন। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৫ হাজার ৭২৬ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৪২ হাজার ৯৭৯ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৩ হাজার ৩৬০ জন। এই হিসাব গত ১৫ই মার্চ সকাল ৮টা থেকে ৩রা মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

সরকারি হিসাবে দেশে বর্তমানে হামের টিকার ঘাটতি নেই। এমনকি ২ কোটির বেশি ডোজ মজুত রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায় যদি টিকা থাকে, তাহলে কেন এত সংক্রমণ ও মৃত্যু।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমস্যার মূলে রয়েছে টিকাদান কভারেজ ও বাস্তবায়নে। ২০২৫ সালে প্রথম ডোজের কভারেজ নেমে আসে ৯২.৭৩ শতাংশে, যা ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি পেতে অন্তত ৯৫ শতাংশ কভারেজ প্রয়োজন, যা বাংলাদেশ কখনোই পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম-অর্থাৎ টিকা নেয়ার উপযুক্ত বয়সের আগেই তারা সংক্রমিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব, অপুষ্টি ও সামগ্রিক হার্ড ইমিউনিটির ঘাটতিকে দায়ী করছেন।আঞ্চলিক সংবাদ প্রতিবেদন

সামপ্রতিক বছরগুলোতে কেবল বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসে ভারতে ১৫ হাজার ৭৫০ জন, ইয়েমেনে ১১ হাজার ৮৫ জন, পাকিস্তানে ৮ হাজার ৭২১ জন, মেক্সিকোতে ৮ হাজার ৫ জন, অ্যাঙ্গোলাতে ৭ হাজার ৩৭৩ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ৫ হাজার ৮২২ জন, কাজাখস্তানে ৫ হাজার ৫৯৯ জন, ক্যামেরুনে ৫ হাজার ১০৯ জন, সুদানে ৩ হাজার ৬৮৯ জন এবং লাওসে ৩ হাজার ৩০৪ জন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত হামের প্রাদুর্ভাবে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছিল না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হামের টিকার প্রথম ডোজের কাভারেজ ছিল ৯২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের ৯০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৪ সালের হামের টিকার প্রথম ডোজের কাভারেজ ছিল ৯৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের ৯৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২৩ সালের হামের টিকার প্রথম ডোজের কাভারেজ ছিল শতভাগ। দ্বিতীয় ডোজের কাভারেজ ৯৮ দশমিক ০৮ শতাংশ, যা পরে পরিচালিত কাভারেজ ইভ্যালুয়েশন সার্ভে অনুযায়ী ৮৬ দশমিক ১ এবং ৮০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া যায়। অর্থাৎ ২০২৩ সালে ইপিআই কর্মসূচির প্রদর্শিত ক্রুড কাভারেজের সঙ্গে কাভারেজ ইভ্যালুয়েশন সার্ভের ডাটায় হামের টিকার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য আছে।

জানা গেছে, বিগত সময়ের তথ্য-উপাত্ত সামনে এনে তার সঙ্গে টিকা কাভারেজের তুলনা করা হচ্ছে। অথচ এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, ওই সময়কালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি তথ্য-উপাত্ত অতিরঞ্জিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। যা ইপিআই বা টিকাদান কর্মসূচির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনে ব্যাহত টিকাদান: ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে টিকাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কয়েক মাস ধরে অনিয়মিত রিপোর্টিং ও মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বন্ধ থাকায় প্রকৃত কাভারেজ কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধাক্কা এসেছে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাতের দীর্ঘদিনের কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে। এই কর্মসূচির আওতায় টিকাদানসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা পরিচালিত হতো। ২০২৫ সালে এটি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও ‘এক্সিট প্ল্যান’ না থাকায় তৈরি হয় বড় শূন্যতা। ব্রিজিং প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব, জনবল সংকট ও অর্থায়ন জটিলতায় টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যাহত হয়।

জানা যায়, আগে যেখানে এক অনুমোদনেই টিকা কেনা সম্ভব হতো, এখন একাধিক মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন লাগায় সময় বেড়ে যায় কয়েক মাস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা সংগ্রহে বিলম্বের কারণেই টিকাদান কাভারেজ কমে গেছে এবং তার ফলেই বর্তমান প্রাদুর্ভাব। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই আংশিক টিকা দেশে এলেও জাতীয় পর্যায়ের ক্যাম্পেইন শুরু হয় ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে। এতে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থতা ছিল বিগত সরকারের।

সরকারি হিসাবে টিকাদানের হার ৯০ শতাংশের ওপরে দেখানো হলেও স্বাধীন জরিপে তা অনেক কম পাওয়া গেছে। ফলে প্রকৃত সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়নি, যা প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ।

সরকারের পক্ষ থেকে টিকার কোনো সংকট নেই বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেট বাড়ানো হয়েছে এবং ইউনিসেফের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দায় দিচ্ছেন মানুষের অসচেতনতা ও টিকা গ্রহণে অনীহার ওপর।

বিশ্বব্যাপী টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ইউনিসেফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪৫ শতাংশ টিকা সরবরাহ করে থাকে। বাংলাদেশ সরকার-ইউনিসেফের একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির আওতায় এই সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। এর ফলে সময়মতো, সাশ্রয়ী এবং সমতাভিত্তিকভাবে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা ওপেন টেন্ডার মেথডে (উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি) কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফ ও তাদের অংশীদারেরা তখন উদ্বেগ জানায়, এই প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক ক্রয়প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত বহাল রাখে অন্তর্বর্তী সরকার। এ সিদ্ধান্তের ফলে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব ঘটে।আঞ্চলিক সংবাদ প্রতিবেদন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমরা ইতিমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ কাভার করেছি। আগামী এক সপ্তাহে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ টিকাদানও শেষ হয়েছে। এ সময় হামের টিকা কার্যক্রম শুরু করা প্রথম ৩০টি উপজেলার একটিতেও এখন হামের রোগী নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকা কেনা হয়নি নানা জটিলতার কারণে। জটিলতা কাটাতে সরকার চেষ্টা করেনি। যার ফলে এখন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, টিকা কেনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মানবজমিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions