শিরোনাম
২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৩৯ সুবিধাজনক সময়ে মোদি-তারেক বৈঠক: ত্রিবেদী অর্থসংকটে ৮৩ লাখ শরণার্থীর সহায়তা বন্ধের শঙ্কা: জাতিসংঘ বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় পৌঁছেনি ৯০ শতাংশ শৌচাগার, পৌঁছেছে শুধু বঞ্চনা ঋতুপর্ণা চাকমার মতো খেলোয়াড়রা আমাদের গর্ব : ওয়াদুদ ভূইয়া ইউরেনিয়ামবাহী বাংলাদেশের বিমান আটকে দেয়ার নেপথ্যে কী, জানাল পাকিস্তান যেখানে ২০০ বছর পর কার্যকর হচ্ছে কোনও নারীর মৃত্যুদণ্ড! অনিবন্ধিত অনলাইন ও নিউজ পেজের বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী একনেকে ১৫,৮২৩ কোটি টাকায় ১৩ প্রকল্প অনুমোদন কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা

অর্থসংকটে ৮৩ লাখ শরণার্থীর সহায়তা বন্ধের শঙ্কা: জাতিসংঘ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- অর্থায়নে ব্যাপক ঘাটতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম সংকটের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষ জরুরি সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ইউএনএইচসিআরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘প্রটেকশন ইরোডেড: দ্য হিউম্যান কস্ট অব আন্ডারফান্ডিং’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থায়নের ঘাটতির কারণে সংস্থাটিকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রম সীমিত করতে হচ্ছে। ফলে সুরক্ষা, শিশু সেবা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ও নিবন্ধন কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে লাখো মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইউএনএইচসিআরের জন্য পাওয়া অর্থের পরিমাণ ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ নাগাদ চলতি বছরের প্রয়োজনীয় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মাত্র ৩২ শতাংশ অর্থ পেয়েছে সংস্থাটি। অথচ ইউএনএইচসিআরের সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা এখনো ঐতিহাসিকভাবে বেশি।

ইউএনএইচসিআরের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক পরিচালক ডমিনিক হাইড বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ হলে কিংবা শিশু সুরক্ষা সেবা কমে গেলে মানুষ যে সহিংসতা, শোষণ ও নির্যাতন থেকে পালিয়ে এসেছে, সেই ঝুঁকিগুলো আবারও তাদের জীবনে ফিরে আসে। এতে পরিবারগুলো আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এবং কেউ কেউ নিরাপত্তার সন্ধানে আবারও স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয় বা মানবপাচারকারীদের শিকার হয়।

তিনি বলেন, সুরক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল কমিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের নিচে নেমে গেলে সেবার পরিধি শুধু কমে যায় না, পুরো ব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

চাদে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার শরণার্থী নিবন্ধন জটিলতার মুখে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় তারা বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আটক হওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছেন। একই দেশে ২ লাখ নারী ও কিশোরী নিরাপদ স্থান ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার শিশুও শিশু সুরক্ষা সেবা হারাতে পারে।

ইথিওপিয়ায় যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের সক্ষমতা এক বছরে অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। কোনো কোনো এলাকায় শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতাও ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। সুদানে যৌন সহিংসতার শিকার হাজারো মানুষ এবং গুরুতর ঝুঁকিতে থাকা শিশুরা গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা সেবা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।

অর্থের ঘাটতি মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম রক্ষায় সংস্কার ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী অর্থসংকটের কারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও অর্থসংকটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চাদে জীবিকা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ব্যবসা উন্নয়নের সুযোগ প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার শরণার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দার জন্য ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরাকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ হারাতে পারেন।

ইউএনএইচসিআর দাতা ও অংশীদারদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখা, বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং তাদের পুনরায় জীবন গড়ে তুলতে নমনীয় অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। সূত্র-বাসস

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions