শিরোনাম
সাইবার সন্ত্রাস প্রতিরোধে সরকারের সাহসী উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র সফরে তারেক রহমান: বিশ্বমঞ্চে নতুন বাংলাদেশকে তুলে ধরার প্রত্যয় কক্সবাজারের রামুতে সহিংসতার ১৪ বছর: হয়রানি বন্ধে বিতর্কিত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চান বৌদ্ধ সম্প্রদায় কক্সবাজারে বজ্রপাতে বৃদ্ধের মৃত্যু রাঙ্গামাটিতে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ভারতে ‘৬৫০ বছরের পুরোনো’ শাহী মসজিদের অংশ ভাঙার নেপথ্যে কী? বন উজাড় হচ্ছে, আসছে বিপর্যয়; জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির সর্বোচ্চ ২ মেয়াদের পক্ষে সরকারের সমর্থন ২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৩৯ সুবিধাজনক সময়ে মোদি-তারেক বৈঠক: ত্রিবেদী

পরিবর্তনের বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন তারেক রহমান

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৩ দেখা হয়েছে
Oplus_131072

এসএম শামসুল আলম:– বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ সফর দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ সফরের সবচেয়ে প্রতীকী দিকগুলোর একটি হলো—জাতিসংঘের একই মঞ্চে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি। তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন। প্রায় ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম বক্তব্য দেন। এবার ২০২৬ সালে সেই ধারাবাহিকতায় বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের বক্তব্যে বাংলাদেশের আত্মনির্ভর উন্নয়ন, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব মোকাবিলা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের বক্তব্যে গণতন্ত্র, উন্নয়ন, দারিদ্র্য মোকাবিলা, ছোট রাষ্ট্রগুলোর অধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
তিনটি সময়, তিনটি ভিন্ন বাস্তবতা—কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, উন্নয়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রশ্নটি তিন প্রজন্মের বক্তব্যের মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তৈরি করে।
পরিবর্তনের পর প্রথম আন্তর্জাতিক পরীক্ষা
তারেক রহমানের এবারের সফরের বিশেষ গুরুত্ব এখানেই যে, এটি বর্তমান সরকারের জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে প্রথম অংশগ্রহণ। পররাষ্ট্রসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফর নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করছে।
দেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একটি নতুন সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক—এসব বিষয়ও বিশ্বের নজরে থাকে।
সেই জায়গা থেকে জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগটি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকে কী বার্তা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী?
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়েও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে। মেটা, ওয়াল স্ট্রিটসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ সফরটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; অর্থনীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নকেও আলোচনার অংশ করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটেও নতুন করে আন্তর্জাতিক সমর্থনের সুযোগ
বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গা সংকট। জাতিসংঘের অধিবেশনের সাইড ইভেন্টে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতির অর্থায়ন ও জলবায়ু ন্যায্যতার বিষয়গুলোও তুলে ধরতে পারে।
আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন
বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা থাকে। তবে জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় মঞ্চে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে কর্মসূচিতে রয়েছে।
এ ধরনের বৈঠক থেকে রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য প্রত্যাশা
তারেক রহমানের এই সফর কতটা সফল হবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বক্তব্যের বাইরেও বাস্তব ফলাফলের ওপর। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কতটা বাড়ে, নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতা কতটা তৈরি হয়, রোহিঙ্গা সংকটে কতটা কার্যকর আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া যায় এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কী ধরনের আস্থা তৈরি হয়—এসব হবে সফরের বাস্তব মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
তবে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রথম উপস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত।
একদিকে জিয়াউর রহমানের আত্মনির্ভর বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বার্তা, অন্যদিকে খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র ও উন্নয়নের বার্তা—এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার পর তারেক রহমানের সামনে এবার নতুন বাস্তবতা।
তাঁর সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হবে—পরিবর্তিত বাংলাদেশের একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক, দায়িত্বশীল, বিনিয়োগবান্ধব ও শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা।
জাতিসংঘের এবারের মঞ্চ তাই শুধু একটি ভাষণের মঞ্চ নয়; পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের নতুন যাত্রাকে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের একটি বড় সুযোগ।
এখন সেই সুযোগ কতটা কার্যকর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অর্জনে রূপ নেয়—সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

লেখক- এসএম শামসুল আলম।
স্টাফ রির্পোটার যমুনা টেলিভিশন।
সাবেক সভাপতি রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাব।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions