শিরোনাম
রাঙ্গামাট – চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি এলাকায় পাহাড়ীকা বাস উল্টে দুর্ঘটনা, চালকের খামখেয়ালিপনার অভিযোগ বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে হাম-রুবেলার প্রকোপ: আক্রান্ত ৮৪ শিশু সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো: গনীউল আজম বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ রাঙ্গামাটিতে বিজ্ঞানমেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানী সুজন চাকমার ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ ও ‘বোমা নিষ্ক্রিয়কারী রোবট’ বৃটেনে নেতৃত্ব নির্বাচনে লড়বেন স্ট্রিটিং, বার্নহামের অঙ্গীকার লেবারকে বাঁচানো অচিরেই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনের বিষয়ে অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে : পার্বত্যমন্ত্রী রাঙ্গামাটি শহরকে পর্যটন বান্ধব উন্নত শহরে গড়ে তোলা হবে : পার্বত্য মন্ত্রী খাগড়াছড়ির রামগড়ে সেনা অভিযানে ইউপিডিএফের ৩ সদস্য আটক, অস্ত্র উদ্ধার রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে মারমা তরুণীকে অপহরণ, ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পেলো নতুন ভিসি

রাঙ্গামাট – চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি এলাকায় পাহাড়ীকা বাস উল্টে দুর্ঘটনা, চালকের খামখেয়ালিপনার অভিযোগ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ১৯ দেখা হয়েছে

মোঃ কামরুল ইসলাম:- রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভবে প্রাণে বেঁচে গেছেন একটি যাত্রীবাহী বাসের ৪৮ জন যাত্রী। রবিবার দুপুরে রাঙ্গামাটি শহরের প্রবেশমুখ সাপছড়ি এলাকায় ‘পাহাড়ীকা’ পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। সড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একটি প্রতিরক্ষা দেয়াল (ওয়াল) থাকায় বাসটি প্রায় ৩০০ ফুট গভীর খাদে পড়া থেকে রক্ষা পায়। স্থানীয়দের মতে, দেয়ালটি না থাকলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতো।​দুর্ঘটনায় বাসে থাকা অন্তত ১২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ জনের শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে-ছিঁড়ে গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।​প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসযাত্রীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা রাঙ্গামাটিগামী যাত্রীবাহী বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৫৭৭৭) দুপুরে সাপছড়ি এলাকায় পৌঁছায়। তখন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। পাহাড়ের একটি বিপজ্জনক ঢালু মোড় (টার্নিং) নামার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে সওজের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। বাসের ধাক্কায় দেয়ালটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটি গাড়িটিকে খাদের নিচে পড়ে যাওয়া থেকে আটকে রাখে। দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতর হুলস্থুল পড়ে যায় এবং যাত্রীরা জানালা ও দরজা দিয়ে তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে আসেন।
​যাত্রীদের অভিযোগ, পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ ও পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় চালক দীর্ঘক্ষণ ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। যাত্রীরা বারবার বারণ করা সত্ত্বেও চালক ফোন রাখেননি। মোড় ঘোরার সময় চালকের এক হাত ফোনে থাকায় তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি।​যাত্রীরা আরও অভিযোগ করেন, এই রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসই ঢাকা থেকে বাতিল (রিজেক্ট) হওয়া পুরোনো গাড়ি। হানিফ, সৌদিয়া বা রিলাক্সের মতো দূরপাল্লার কোম্পানির পুরোনো লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িগুলো কম দামে কিনে মালিকরা রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে চালাচ্ছেন। এই গাড়িটি যাত্রাপথেই কয়েকবার বিকল হয়েছিল। এমন ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ির কারণে এই সড়কে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের জীবন বাজি রেখে চলতে হচ্ছে।​রাঙ্গামাটি মানিকছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জামাল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে। আহত ১২ জনের মধ্যে ৪ জনের শরীর কেটে গেছে। তবে কারো আঘাতই আশঙ্কাজনক নয়। তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।​এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শওকত আকবর বলেন, বাস দুর্ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা স্থানীয়ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় কোনো রোগী হাসপাতালে আসেনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেকোনো জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত ছিল।​পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং পলাতক চালক ও হেলপারকে আটক করার চেষ্টা চলছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions