
রাঙ্গামাটি:- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতা, পরামর্শ ও সমর্থনের মাধ্যমে এ ধরনের মহতী আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি জেলার ঐতিহ্যবাহী রাজবন বিহার প্রাঙ্গণে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রধান পূণ্যার্থীর বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ছিল বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন, বিশ্বশান্তি প্যাগোডার উদ্দেশ্যে অর্থদান, পরিত্রাণ সূত্র শ্রবণ এবং বাংলাদেশী বৌদ্ধদের ধর্মীয় সংঘের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
এ সময় সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাস্থবির এবং উপ-সংঘরাজ ভদন্ত প্রিয়দর্শী মহাস্থবিরকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এসব কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের এই উৎসবগুলোর মূল বার্তা হচ্ছে শান্তি, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি।
বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের স্বকীয়তা রক্ষা, সংস্কৃতির বিকাশ এবং সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে।
দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এখানকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসবগুলো তাদের নিজস্ব রীতি ও ঐতিহ্য অনুসারে উদযাপিত হচ্ছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
অনুষ্ঠানে ধর্মপ্রাণ ভিক্ষুসংঘ, চতুর্থ মহাসংঘরাজ, উপ-সংঘরাজসহ অন্যান্য ভিক্ষুগণ, দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শেষে মন্ত্রী উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং বিশ্বশান্তি ও সকল প্রাণীর কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন।