শিরোনাম
২৩ বাংলাদেশি নাবিকের মুক্তি,মুক্তিপণ দিতে হলো ৫০ লাখ ডলার পুকুরপাড়ে বসে নারীদের গোসলের ভিডিও ধারণ করা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০ রাঙ্গামাটির সাজেকে রিসোর্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানির সংকট রাঙ্গামাটিতে বৈশাখের খরতাপে অস্থির জনজীবন,তাপমাত্রা ৩৮ডিগ্রী সেলসিয়াস খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরাদের তৈবুংমা-অ-খুম বগনাই উৎসব উদযাপন খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায়ের মাহা সাংগ্রাই-এ জলোৎসবে রঙ্গিন বান্দরবানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নববর্ষের উৎসব পালন বান্দরবানে আসামি ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে পুলিশ সদস্য আহত রাঙ্গামাটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে

সাইবার নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মারাত্মক হতে পারে-বিচারপতি হাসান আরিফ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৪৬ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- সাইবার নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে খুবই মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ। ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ও আইন সাংবাদিকতা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় সোমবার তিনি এ কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে ওই কর্মশালার আয়োজন করে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)।

সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে বলতে গিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়ে থাকে যে এই আইনটা সাংবাদিকবান্ধব আইন বা ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন–বান্ধব আইন। বারবার একটা কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়,… আগে মানহানির জন্য হুট করে জেলে দেওয়া যেত। এখন জরিমানার বিধান করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন বোদ্ধা ব্যক্তি যাঁরা, তাঁরাও বিভিন্ন আর্টিকেলে এ নিয়ে কথাগুলো বারবার বলে এসেছেন।’

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, ‘আইনের পাঁচটি ধারা (২২, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৮) যেকোনোভাবে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে।…যদিও ২৯ ধারায় মানহানির বিষয়ে হয়তোবা আপনারা জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যেতে পারেন। কিন্তু কয়েকটা সেকশন খুবই মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এই জার্নালিজমে (সাংবাদিকতায়)।’

আইনের ২২ ধারায় ‘ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক জালিয়াতি’ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারাটি তুলে ধরে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে জালিয়াতি করেন, তাহলে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হবে একটি অপরাধ। তিনি বলেন, ‘এখন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে জালিয়াতি কাকে বলে? ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে জালিয়াতি বলে কোনো সংজ্ঞা কিন্তু এখানে নেই। আপনি সংজ্ঞায়িত করেন জালিয়াতিটাকে—কোন কাজটা করলে আমার জালিয়াতি হবে, কোন কাজটা করলে আমার জালিয়াতি হবে না? এখন যদি সংজ্ঞায়িত না করেন, তাহলে একেক সময় একেক সরকার আসবে একেক ভিউ (দৃষ্টিভঙ্গি) নিয়ে। তথ্যমন্ত্রী হবেন একেক ভিউ নিয়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন, একেকজনের একেক ধরনের মাইন্ডসেট (মানসিকতা) থাকে। কেউ সাংবাদিকবান্ধব হয়, কেউ খুব বেশি সমালোচনা সহ্য করতে পারে না—ইনটলারেন্স থাকে অনেকের প্রচণ্ড।…তারপরে আমাদের পলিটিক্যাল অ্যাটমোস্ফেয়ারও ইনটলারেন্স (রাজনৈতিক পরিবেশও অসহিষ্ণু)।…ইনফ্যাক্ট ১৯৯১ থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে যখন একটা সরকার পরিবর্তনের পদ্ধতি মোটামুটিভাবে চালু হয়েছে, তখন থেকেই দুই বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের ইনটলারেন্স (অসহিষ্ণুতা) আমরা লক্ষ করেছি। কোনো ধরনের সমালোচনা হলে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন—এগুলো ছাড়া আর কোনো পন্থা উনাদের হাতে খোলা আছে বলে মনে করেন না। এ ক্ষেত্রে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে দমন করতে গিয়ে দেখা যায় সাংবাদিকেরাও এটার ভিকটিম (ভুক্তভোগী) হয়ে যান।’

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, এ ক্ষেত্রে এ ধরনের একটা ধারা খুব মারাত্মক একটা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে (প্রতিবেদন করার ক্ষেত্রে)। আদালত রিপোর্টিংয়ে হয়তোবা না–ও হতে পারে।

আইনের ২৩ ধারায় ‘ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক প্রতারণা’ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এই ধারাটি তুলে ধরে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা করেন, তাহলে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হবে একটি অপরাধ। অপরাধ হলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

ধারাটিতে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক প্রতারণা অর্থ কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে অথবা অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল সিস্টেম, ডিজিটাল নেটওয়ার্কে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো তথ্য পরিবর্তন করা, মুছে ফেলা, নতুন কোনো তথ্যের সংযুক্তি বা বিকৃতি ঘটানোর মাধ্যমে যার মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাস করা, তার নিজের বা অন্য কোনো ব্যক্তির কোনো সুবিধাপ্রাপ্তির বা ক্ষতি করার চেষ্টা করা বা ছলনার আশ্রয় গ্রহণ করা। তিনি বলেন, এটাতে হয়তো বা খুব বেশি সাংবাদিকদেরকে ধরতে পারবে না। কিন্তু ইনজেনারেল যারা মিডিয়া ব্যবহার করে, এখন মিডিয়া ব্যবহার করার সংখ্যা বাংলাদেশে জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশের মতো হয়ে গেছে। এখন গরিব জনগোষ্ঠী যারা তাদের হাতেও মোবাইল ফোন আছে, ফেসবুক ব্যবহার করছে, ইউটিউব দেখছে ও আপলোড করছে। এটা ইন জেনারেল (সাধারণভাবে) অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ধারা।

অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে আলোচনায় অংশ নেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সেখানে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। সঠিক প্রমাণ নিয়ে সাংবাদিকতা করলে কারও কিছু বলার থাকবে না।

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি শামীমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions