শিরোনাম
রাঙ্গামাটির সাজেকে জেএসএস-ইউপিডিএফের গোলাগুলিতে শিশু গুলিবিদ্ধ, তীব্র প্রতিবাদ সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের পার্বত্য অঞ্চলে ক্রিকেট প্রতিভা অন্বেষণে বিসিবির উদ্যোগ রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুদকের অভিযান,টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মসহ নানা অভিযোগ চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ হাজার ৪৩০ জন, মৃত্যু ১৬ ইসরাইলি সামরিক বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি সৌদি আরব চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ৭৭টি অবৈধ ক্রসিং, তিন বছরে ১০১ মৃত্যু সাইবার সন্ত্রাস প্রতিরোধে সরকারের সাহসী উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র সফরে তারেক রহমান: বিশ্বমঞ্চে নতুন বাংলাদেশকে তুলে ধরার প্রত্যয় কক্সবাজারের রামুতে সহিংসতার ১৪ বছর: হয়রানি বন্ধে বিতর্কিত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চান বৌদ্ধ সম্প্রদায় কক্সবাজারে বজ্রপাতে বৃদ্ধের মৃত্যু

রাঙ্গামাটির সাজেকে জেএসএস-ইউপিডিএফের গোলাগুলিতে শিশু গুলিবিদ্ধ, তীব্র প্রতিবাদ সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২ দেখা হয়েছে

রাঙ্গামাটি:- রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেএসএস ও ইউপিডিএফের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে ৯ বছরের শিশু সঞ্জিতা ত্রিপুরা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে চাইল্যাতলী এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, গোলাগুলির সময় সঞ্জিতা ত্রিপুরা বাম হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে তার হাত থেকে গুলি অপসারণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে সে বিপদমুক্ত বলে জানা গেছে।

সংগঠনটি বলছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের প্রভাব যখন সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে, তখন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি শিশু কিংবা কোনো বেসামরিক নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা কোনো সশস্ত্র সংঘাতের কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের সংঘাতের কারণে শুধু হতাহতের ঝুঁকিই বাড়ে না; স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে। চাইল্যাতলীর সাম্প্রতিক ঘটনাটিও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ মনে করে, পাহাড়ি অঞ্চলে সশস্ত্র আধিপত্য বিস্তারের যে কোনো প্রচেষ্টা ও সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির দাবি, সশস্ত্র সংঘাতের কারণে সাজেকের পর্যটন খাতও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় পর্যটকদের যাতায়াত কমে গেলে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পরিবহনসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসা ও স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাজেক দেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচল স্বাভাবিক রাখা, চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করা এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।

সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ পাহাড়ি অঞ্চলে আইনের শাসন, শান্তি, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে সংগঠনটি জেএসএস ও ইউপিডিএফসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান এবং যেকোনো বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিশু, পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোনো সশস্ত্র সংঘাতের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়া উচিত নয়। নিরাপদ জনজীবন, স্বাভাবিক পর্যটন ব্যবস্থা এবং আইনসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions