
জুরাছড়ি,রাঙ্গামাটি:- রাঙ্গামাটি জেলার অন্যতম দুর্গম উপজেলা জুরাছড়ির কয়েকটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তির আংশিক অবসান ঘটাতে স্থানীয় উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে একটি সিঁড়ি। যোগাযোগের চরম দুর্ভোগে থাকা সোহেল পাড়া, চালকা পাড়া, জনতা পাড়া, ত্রিপুরাছড়া ও কুকিছড়া এলাকার মানুষের জন্য এটি নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
জানা যায়, উপজেলার পানছড়ি চিবে নামক দুর্গম স্থানে স্থানীয় বাসিন্দা শিপ্ল্যাব চাকমা (Shiplab Chakma) নিজস্ব অর্থায়নে ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সিঁড়ি নির্মাণ করেন। বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে উপজেলা সদরে যাতায়াত করে আসছিলেন।


স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে বিকল্প কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এই এলাকার মানুষজনকে প্রায় ২২ ফুট উচ্চতার খাড়া পাহাড় বেয়ে ওঠানামা করতে হতো। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় বাজার সদাই, কৃষিপণ্য কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের সময় এই পথ ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময়ই ছিল।
নতুন নির্মিত সিঁড়িটি ব্যবহার করে এখন তুলনামূলক নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারছেন এলাকাবাসী। তবে সিঁড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতেও এখনও বেশ সময় ও কষ্ট সহ্য করতে হয় বলে জানান স্থানীয়রা। তবুও এটি তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা একটি টেকসই সড়ক বা স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এ ধরনের ছোট ছোট সমাধানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দুর্গম এই জনপদের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি টেকসই সড়ক নির্মাণ জরুরি। পাশাপাশি জরুরি সেবা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে এইসব বিচ্ছিন্ন এলাকাকে মূল যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন।
এদিকে, শিপ্ল্যাব চাকমার এই উদ্যোগকে এলাকাবাসী মানবিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।