
ডেস্ক রির্পোট:- নিজ দলের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সপ্তাহে দু’দিন সাংগঠনিক কার্যালয়ে বসার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি মন্ত্রীদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের যোগাযোগ, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আলাপ-আলোচনার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সপ্তাহে দু’দিন না হলেও একদিন দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন। দলীয় কার্যালয়ে না বসায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সচিবালয়ে ছুটছেন অনেক নেতাকর্মীরা। তারা আবার বিভিন্ন কাজের জন্য তদবির করেও যাচ্ছেন।
এ কারণে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। সচিবালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় ও তদবির ঠেকাতেই মন্ত্রী ও প্রতিন্ত্রীদের দলীয় কার্যালয়ে বসানোর চিন্তা করা হয়েছে। ওদিকে সরকার গঠনের পর নয়াপল্টনের বিএনপি’র কেন্দ্রীয় দপ্তরে নেতাকর্মীদের ভিড় অনেকটা কমে যায়। সরকার গঠনের পর কিছু নেতাকর্মী এখন সচিবালয়মুখী হয়েছেন। তারা ফুল নিয়ে মন্ত্রীদের শুভেচ্ছা জানাতে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ কোনো কারণ ছাড়াই এলাকার পরিচয়ে মন্ত্রীদের দপ্তরে যাচ্ছেন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৮শে মার্চ প্রথমবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান তারেক রহমান। আবারো কার্যালয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান নয়াপল্টনে যাওয়ার দিন সেখানে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম হয়। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়। দলীয় প্রধান সেদিন ঘোষণা দেন সুযোগ পেলেই তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসবেন।
বিএনপি এবং মন্ত্রীদের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সপ্তাহে দু’দিন দলীয় কার্যালয়ে বসার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই নির্দেশনা লিখিত নয়, মৌখিকভাবে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সামলে সুযোগ পেলে সপ্তাহে অন্তত একদিন দলীয় কার্যালয়ে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন দায়িত্বশীল জানিয়েছেন, মন্ত্রীদের দল এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা প্রয়োজন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও প্রয়োজন রয়েছে। তারা তো দলের প্রতিনিধি হয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। তাহলে কেন তারা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন না? এই চিন্তা থেকেই মন্ত্রীদের সপ্তাহে দু’দিন কার্যালয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সরকারের আরেকজন দায়িত্বশীল জানিয়েছেন, সরকারকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। দল না থাকলে সরকার ভালোভাবে চলতে পারবে না। এই চিন্তা থেকেই মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
ওদিকে সচিবালয়ে নানামুখী তদবির করতেও যাচ্ছেন দলের কতিপয় নেতাকর্মী। বিভিন্ন দপ্তরে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ জড়ো হচ্ছে। তারা বদলি এবং পদায়নের আবেদন নিয়ে মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ভিড় করছেন। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, একইসঙ্গে মন্ত্রীরাও তদবিরে বিব্রত হচ্ছেন। তদবির করতে যাওয়াদের অনেকে দলীয় নেতাকর্মী।
শুধু দলীয় কর্মী কিংবা বাইরের লোকজন নয়, সচিবালয়ের কর্মরত ব্যক্তিরা বিভিন্ন ধরনের তদবির নিয়ে মন্ত্রীর কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে কেউ ব্যক্তিগত, কেউ রাজনৈতিক এবং কেউ এলাকার প্রভাবশালী বিএনপি’র নেতার রেফারেন্স ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি সরজমিন এক মন্ত্রণালয়ে দেখা গেছে, সচিবালয়ে কর্মরত একজন ব্যক্তি বদলির তদবির নিয়ে একজন মন্ত্রীর কাছে গিয়েছেন। তার হাতে কাগজপত্র দেখে মন্ত্রী জিজ্ঞ্যেস করেন, এটা কি? সেই ব্যক্তি বলেন, উনি (মন্ত্রীর পরিচিত) আমার আত্মীয়। মন্ত্রী তখন ধমক দিয়ে বলেন, আপনি তো সেদিনও একটা (তদবির) নিয়ে এসেছিলেন। এসময় মন্ত্রী ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দেন।রাজনৈতিক পডকাস্ট সিরিজ
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ায় নানা বিষয়ে তদবির করতে আসছেন কেউ কেউ। এই তদবির পার্টির কারণে কোনো কোনো মন্ত্রী বিব্রতবোধ করছেন।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খালি তদবির। সেই সমস্ত তদবিরগুলো হচ্ছে পোস্টিং-টোস্টিং নিয়ে। যেসব বিষয় দরকার আছে, সেই সব করতে হবে। কিন্তু সেগুলোকেই যদি প্রধান গুরুত্ব দেই তাহলে তো মুশকিল হবে।মানবজমিন