
ডেস্ক রির্পোট:- কুমিল্লায় ভিডিও করায় মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে মুচলেকা আদায়ের ঘটনায় চান্দিনা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাকে প্রত্যাহারের বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনও নথি দেখিনি।’
এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে দুই সাংবাদিকদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে মুচলেকা আদায়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন- ফেস দ্য পিপলের দেবীদ্বার প্রতিনিধি আবদুল আলীম ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবীদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার। তারা অভিযোগ করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের খারাপ আচরণের ভিডিও করায় তাদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। থানায় গিয়ে তিনি জোর করে মোবাইল নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে দেন। পরে তাদের কাছ থেকে জোর করে মুচলেকা নেওয়া হয়।
সাংবাদিক আবদুল আলিম বলেন, ‘আমার খালাতো বোনের পরিবারের একটি নামজারির শুনানির দিন ছিল আজ। বেলা ১১টার দিকে আমি ও সাংবাদিক রাসেল সরকার ভূমি অফিসে যাই। বেলা ২টা বাজার ২০ মিনিট আগে আমরা এসি ল্যান্ডকে (ফয়সাল আল নূর) জিজ্ঞেস করি, আজ শুনানি হবে কি না। এ সময় এসি ল্যান্ড উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। আমি পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে তার খারাপ আচরণের ভিডিও ধারণের সময় তিনি টের পান। এ সময় আমার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে চাইলে আমি বাধা দিই। ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমাদের দুজনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যেতে পুলিশকে আদেশ দেন। পুলিশ আমাদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় আমরা একাধিকবার বলেছি, আমরা সংবাদকর্মী। কেন আমাদের হাতকড়া পরাচ্ছেন? তখন পুলিশ সদস্যরা বলেছেন, ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ, আমাদের কিছুই করার নেই।’
আবদুল আলিম অভিযোগ করেন, ‘থানায় নেওয়ার পর আমার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মোবাইলের লক খুলে গ্যালারির সব ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দেন এসি ল্যান্ড। পরে আমরা এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করবো না মর্মে জোর করে আমাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।’
বুধবার সন্ধ্যায় ওই দুই সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিহিত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে আবদুল আলিম বলেন, ‘কালকের ঘটনায় বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। পরে শুনলাম রাতে তাকে বদলি করা হয়েছে।’