কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিতে ডিসিদের নির্দেশ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী। বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেলবাহী জাহাজগুলো আসছে। তাই এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ। কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। গতকাল সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মনির হোসেন চৌধুরী এই তথ্য জানান।

জ্বালানি তেলের চাহিদা ও আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজেলের চাহিদা গড়ে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন। অকটেন ও পেট্রোল এ দুটো আমাদের মাসে দরকার হয় প্রায় ৭০ হাজার টন। দৈনিক হিসাবে পেট্রোল-অকটেন প্রায় এক হাজার ২০০ টন এবং ডিজেল প্রায় এক হাজার ৪০০ টন লাগে। যুগ্ম সচিব বলেন, ?আমি হিসাব করে দেখেছি আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোনো সংকট নেই। ডিজেলের ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা নেই। আমরা মাসভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আমদানি করছি। এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ। বর্তমান মজুত এবং ইনকামিং শিপ সব অন টাইম আছে। ফলে কোনো অসুবিধা হবে না, ইনশাআল্লাহ। সংকট না থাকলেও পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না কেন? জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিন একই উত্তর দিচ্ছি গত বছর যা সরবরাহ করেছি, এ বছরও তাই করছি।

পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছে এটাও আমরা দেখছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে এখনো প্যানিক বায়িং বন্ধ হয়নি। ফলে সরবরাহ চেইনে মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটছে। মজুত প্রবণতাও রয়েছে। তবে স্বাভাবিক সরবরাহে কোনো সংকট নেই। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, পাম্পে তেল না পাওয়ার বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত সরবরাহ করছি। রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির চিঠির অগ্রগতির বিষয় জানতে চাইলে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা জবাব পাইনি। অবৈধ মজুত ও শাস্তির বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রী ইতিমধ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। কোম্পানির কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এত অবৈধ মজুত তেল উদ্ধার করা হলেও কোনো ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি-এ বিষয়ে তিনি বলেন, চার ধরনের ডিলারশিপ আছে। কোথা থেকে মজুত হচ্ছে, সেটা নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। কৃষক ডিজেল পাচ্ছেন না এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে যুগ্ম সচিব বলেন, বৃহস্পতিবার সকালেও মন্ত্রী তিন এমডিকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন এবং আমি সকালবেলা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সভা করেছি। আমাদের ক্লিয়ার ইন্সট্রাকশন হচ্ছে কৃষকদের সার ও ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমি জেলা প্রশাসকদের একজন একজন করে জিজ্ঞেস করেছি। নির্দেশনাটা এরকম যে, কোন ব্লক সুপারভাইজার যেটাকে এখন বোধহয় ইউনিয়ন কৃষি সহকারী কর্মকর্তা এ রকম কিছু বলে। তাদের কাছে কৃষকের তালিকা থাকে। অথবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কোনো প্রত্যয়ন নিয়ে যে কৃষক ডিজেল চাইবে, তাকে যেন এটা প্রদান করা হয়। এটা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভিআইপিদের পেট্রোল পাম্পগুলোতে সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি তেল দেয়া হচ্ছে-এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, এই বিষয়টা ঠিক এইভাবে আমার জানা নেই। তবে এরকম কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। আমার মনে হয় না যে, আলাদা করে কাউকে এই সুযোগ ফিলিং স্টেশন এই মুহূর্তে অন্তত দেয়ার সুযোগ আছে।

জ্বালানি সংকট না থাকলেও এই মুহূর্তে সবার জায়গা থেকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন মনির হোসেন চৌধুরী। গরম পড়ে গেছে, লোডশেডিংয়ের বিষয়ে আপনাদের কী চিন্তা-ভাবনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বোধহয় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কে প্রশ্ন করলে একটু ভালো উত্তর দিতে পারবে। তবে আমাদের দিক থেকে আমি একটু আপনাকে বলি আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে বসেছি; তাদের যে প্রয়োজনীয় গ্যাস আমরা দেই সেই গ্যাসটা আমরা বসে ঠিক করেছি যে, আমরা এই গ্যাস তাদের দেবো। তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা গ্যাস দেবো।

এদিকে, সারা দেশে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গত ৩রা মার্চ থেকে ১লা এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে এ সব জ্বালানি উদ্ধার করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা জ্বালানির মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। যার পরিমাণ ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার। এ ছাড়া অভিযানে অকটেন ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার ও পেট্রোল ৭০ হাজার ৫৪ লিটার উদ্ধার করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ জানায়, অবৈধ মজুত, পাচার ও সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা রোধে এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ আরও জানায়, বাজারে জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা ও ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions