
শামসুল আলম :- রাঙ্গামাটি শহরে মাদক নির্মূলে জোরদার অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিক্রির নগদ অর্থসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে পরিচিত মাদক ব্যবসায়ীও রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে রাঙামাটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁঠালতলী ধোপাপাড়া এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর নির্দেশনায় কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল অভিযানটি পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন স্পটে ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাঁঠালতলীর ধোপাপাড়ায় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সজল দাশের বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সজল দাশ (৩৪), পিতা-মৃত দিলিপ দাশ, মাতা-বিজলি দাশকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তার সহযোগী হিসেবে উপস্থিত আরও ৫ জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন—হৃদয় দাশ (২৫), পিতা-রুপন দাশ; মো. সাইফুল ইসলাম (৩০), পিতা-হেকমত আলী; বৃন্দাবন বড়ুয়া (৩১), পিতা-জয়সেন বড়ুয়া; সুমন দাশ (৩৫), পিতা-রাখাল দাশ এবং কাজল দাশ (২৬), পিতা-দিলিপ দাশ। সকলের বাড়ি রাঙামাটি পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে।
অভিযান চলাকালে তাদের কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা হয়েছিল এবং উদ্ধারকৃত নগদ অর্থ সাম্প্রতিক বিক্রির অংশ।

অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সজল দাশের স্ত্রী রীতা দাশ (২৫) এবং অপর এক মাদক ব্যবসায়ী শুভ কৌশলে পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ২৪ মার্চ দিবাগত রাতে মাদক সেবী ও কারবারিসহ ১১ জন এবং ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে আরও ১৯ জনকে পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। তাদের আদালতের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।