
খাগড়াছড়ি:- খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের বিপরীতে বরাদ্দের ১০ শতাংশ পিসি (পার্সোনাল কমিশন) তথা ঘুস দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। খাগড়াছড়ির মাস্টারদা সূর্য সেন গণপাঠাগারের সাধারণ সদস্য (সাবেক সহ-সভাপতি) মো. আরাফাত হোসেন রিজভী দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক আবেদনে এই অভিযোগ করেছেন।
দুদক চেয়ারম্যানের বরাবরে করা আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় মাস্টারদা সূর্য সেন গণপাঠাগার কেন্দ্রের উদ্যোগে গ্রুপ ভিত্তিক বই পড়া কর্মসূচি পালন, ১৫৫ নং প্রকল্পে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা ও তিন জন কর্মকর্তা অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব প্রেরণে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।
অভিযোগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় মাস্টারদা সূর্য সেন গণপাঠাগার কেন্দ্রের উদ্যোগে গ্রুপ ভিত্তিক বই পড়া কর্মসূচি পালন, ১৫৫ নং প্রকল্পে সর্বমোট ৫০ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দ ছিল ৩০ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বরাদ্দ ২০ লাখ টাকা।
উপরোক্ত প্রকল্পের বিষয়ে উন্নয়ন স্কিম প্রণয়ন (ডিএসপি) প্রস্তুতের জন্য গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের কাগজ নিয়ে জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ানের নিকট গেলে তিনি বলেন, ‘টাকা ছাড়া কোনো কাজ হবে না।’ এরপর থেকেই শুরু হয় ধাপে ধাপে হয়রানি।
প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে বরাদ্দের বিপরীতে চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা ১০ শতাংশ, নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ ৫ শতাংশ, নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান ৫ শতাংশ, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে নিয়োজিত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আশীষ চাকমা ২ শতাংশ পিসি/ঘুস দাবি করেন। তাদের দাবি করা ঘুস প্রদান না করায় নানাভাবে হয়রানি।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বাজেট ৩০ লাখ টাকার মধ্যে অগ্রিম ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা অর্থ ছাড়ের জন্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক গত ১৩ মে শেফালিকা ত্রিপুরা আবেদন করেন। উক্ত প্রকল্পে পিসি/ঘুস না পাওয়ার কারণে চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা রাগান্বিত হয়ে গত ২ জুন সহকারী প্রকৌশলী অপু বড়ুয়ার শার্টের কলার ধরে তাকে অপমান করেন।
তারপর মিসেস শেফালিকা ত্রিপুরাকে ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। এরপরও নানা রকম হয়রানি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর করা আবেদনপত্রে।
খাগড়াছড়ির মাস্টারদা সূর্য সেন গণপাঠাগারের সাধারণ সদস্য (সাবেক সহ-সভাপতি) মো. আরাফাত হোসেন রিজভী দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো তার আবেদন প্রসঙ্গে পার্বত্যনিউজকে বলেন, ‘আমার অভিযোগ বিস্তারিতভাবে লিখে তথ্য-প্রমাণসহ দুদক চেয়ারম্যান বরাবর পাঠিয়েছি।’ ৬ জুলাই রোববার ডাকযোগে এই অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শেফালিকা ত্রিপুরা পার্বত্যনিউজকে জানান, ‘ নির্বাহী কর্মকর্তা বা অন্যান্য কর্মকর্তার বিষয়টি আমি জানি না। তবে চেয়ারম্যান ম্যাডামের বিষয়টি জানি। ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকার চেক দিতে তিনি এক লাখ টাকা নিয়েছেন। বলেছেন, মন্ত্রণালয় থেকে এমনি এমনি টাকা আসে না, সেখানেও টাকা দিয়ে বরাদ্দ আনতে হয়।’
এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, ‘তারা আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে তার পক্ষে যদি কোনো প্রমাণ দিতে পারে তাহলে আমাকে যে শাস্তি দেয়া হবে, আমি মাথা পেতে নেব।’
এ প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, ‘এসব ভুয়া অভিযোগ। মাস্টারদা সূর্য সেন গণপাঠাগারের প্রকল্পটাই ভুয়া। এটা নিয়ে আমাদের তদন্ত করে দেখতে হবে।’পার্বত্যনিউজ