শিরোনাম
কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম বৃষ্টিতে ভেসে গেল বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল, না খেলেই সেমিফাইনালে লিটনরা ট্রাম্পের ‘কিউবা ভেঙে পড়বে’ মন্তব্যের পর হাভানার পাশে চীন যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মধ্যেই অস্ত্র হাতে নিচ্ছেন ইরানি নারীরা স্ত্রীর ডেলিভারির ওষুধ কিনতে গিয়ে হাসপাতালে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা ‘২ কোটি দেন, সব সই করে দেব’ লক্ষ্মীপুরে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী বরখাস্ত ‘কিশোর অপরাধ’ বিরোধী অভিযান, চট্টগ্রামে এক রাতে আটক ৩৫৪ দাবি মানা না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্ত পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবে রাঙ্গামাটিতে বিজিবির বড় সফলতা: ২টি পিস্তল, গুলিসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট জব্দ

ট্রাম্পের ‘কিউবা ভেঙে পড়বে’ মন্তব্যের পর হাভানার পাশে চীন

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন কিউবার বর্তমান সরকার ভেঙে পড়বে এবং দ্বীপটিতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। তার এ মন্তব্যের পর কিউবার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে চীন। সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই প্রতিশ্রুতি দেন। এদিন চীন ও কিউবার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি বলেন, চীন কিউবাকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের নিজস্ব পরিস্থিতির উপযোগী উন্নয়নের পথ অনুসরণে সমর্থন করবে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প কিউবাকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্র’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দোরগোড়ায় ‘বিদেশি প্রতিপক্ষদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কিউবা। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ও খাদ্যসংকট চলছে এবং ঘন ঘন দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। কয়েক দশকের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থায়ন, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ কম উৎপাদন, আমদানিনির্ভরতা এবং পুরোনো জ্বালানি অবকাঠামো। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সংকট আরও তীব্র হয়েছে। গত বছর কিউবার আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৬ শতাংশ এসেছিল ভেনিজুয়েলা ও মেক্সিকো থেকে। কিন্তু এ বছর এসব সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়ায় মেক্সিকোও সরবরাহ স্থগিত করেছে।

ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর কিউবার ওপর মার্কিন চাপ আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে তিনি হাভানার নীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য ‘অস্বাভাবিক ও অসাধারণ হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ওই আদেশে অভিযোগ করা হয়, রাশিয়া, চীন ও ইরানের পাশাপাশি হামাস ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখছে এবং তাদের সমর্থন করছে হাভানা। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, কিউবায় গণতন্ত্র ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এসব কথিত হুমকি মোকাবিলা করাই তাদের নীতির লক্ষ্য।

কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার ওয়াশিংটনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে হাভানা। কিউবার দাবি, অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র করে রাজনৈতিক পরিবর্তন চাপিয়ে দেয়াই মার্কিন চাপ প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্য। হাভানা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বহুমাত্রিক’ অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালানোর অভিযোগ করেছে। কিউবার ভাষ্য, দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহে অন্য দেশগুলোকে নিরুৎসাহিত করার জন্য নেয়া বিধিনিষেধ কার্যত একটি ‘জ্বালানি অবরোধ’।রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার

শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এসব পদক্ষেপকে নৌ অবরোধের সঙ্গে তুলনা করে একে ‘যুদ্ধের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এমন অবস্থায় জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বাইরের হস্তক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা এবং সামরিক চাপ ও সরকার পরিবর্তনের পরিবর্তে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়ার বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে কিউবার প্রতি সমর্থন তুলে ধরেছে চীন। চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের সময়ও বেইজিং একই ধরনের নীতির কথা বলেছে। সে সময় চীন সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। চীন এমন একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরও বেশি সার্বভৌম সমতা থাকবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতামতের গুরুত্ব বাড়বে। শনিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং ‘সংশ্লিষ্ট দেশকে’ ‘কিউবার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি অবিলম্বে বন্ধ’ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ‘অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়ার’ আহ্বান জানান।

কিউবায় সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রেখেছে চীন। দেশটি কিউবাকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরঞ্জাম ও অর্থায়ন দিয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কিউবার দৈনিক গড় বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র ২ শতাংশ এসেছিল সৌরবিদ্যুৎ থেকে। তবে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২১ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে। এ ছাড়া চীন জরুরি খাদ্য সহায়তাও দিয়েছে। এর আগে কিউবার ঋণ পুনর্গঠন এবং দেশটিকে অর্থায়ন দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে বেইজিং।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions