
ডেস্ক রির্পোট:- ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সড়কে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত তিনটি হাইয়েস মাইক্রোবাস এবং বিপুল পরিমাণ সাংগঠনিক সরঞ্জাম ও প্রচারসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা জেলার গুরুত্বপূর্ণ কোনো সড়কে আকস্মিক ঝটিকা মিছিল করতে পারেন—এমন গোপন তথ্য পায় জেলা পুলিশ। এর ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ‘প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর গেটের সামনে স্থাপিত চেকপোস্টে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালায়। এ সময় গাড়িতে থাকা আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর, রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ থানাধীন হাতিমারা মোড়ে হাতিমারা তদন্তকেন্দ্রের পুলিশের স্থাপিত চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে আরও একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসসহ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, রাত আনুমানিক ২টার দিকে শ্রীনগর থানাধীন ছনবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থাপিত চেকপোস্টে তল্লাশিকালে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসসহ আওয়ামী লীগের আরও ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে শ্রীনগর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, পৃথক অভিযানে জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আওয়ামী লীগের মোট ৩১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার এবং তিনটি হাইয়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। তল্লাশির সময় তাদের বহনকারী গাড়িগুলো থেকে মুখ ঢাকার মাস্ক, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিন’ লেখা বিভিন্ন রাজনৈতিক সরঞ্জাম ও প্রচারসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।