অবশেষে ‘সেই’ ট্রফি বাড়ি নিয়ে গেলেন জভেরেভ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- নিউ ইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোজে ছয় বছর আগের এক বেদনাদায়ক স্মৃতিকে পেছনে ফেলে ইউএস ওপেনের শিরোপা নিজের করলেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। রোববারের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের ঘরের ছেলে বেন শেলটনকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-২), ৫-৭, ৬-২ সেটে হারিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফির স্বাদ নিলেন এই জার্মান তারকা। চলতি বছরের জুনে ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের পর এটি তার টানা দ্বিতীয় মেজর খেতাব।

ম্যাচ শেষে জভেরেভের অদ্ভুত এক কাণ্ড অবাক করে সবাইকে। জয়ের পর প্রথম পয়েন্টের জন্য তিনি যখন আবারো বেসলাইনের দিকে এগিয়ে যান। তখন তার টিম মেম্বাররাই তাকে জানান যে ম্যাচটি আসলে শেষ হয়ে গেছে! এই ঘটনা নিয়ে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর তারকা বলেন, “ওই মুহূর্তে আমি পুরোপুরি ‘ ‘জোনে’ ছিলাম। চারপাশের কোনো আওয়াজই আমার কানে আসছিল না। টেনিস কোচেরা সবসময় পরবর্তী পয়েন্টে মনোযোগ দিতে বলেন। আর তখন আমি স্কোরবোর্ডটাই ভুলে গিয়েছিলাম।” ২০২০ সালের ইউএস ওপেন ফাইনালে ডমিনিক থিমের কাছে দুই সেট এগিয়ে থেকেও হেরে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জভেরেভ। ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে সেদিন তিনি বলেন, ‘আশা করি একদিন এই ট্রফিটা বাড়িতে নিয়ে যেতে পারব।’ অবশেষে দীর্ঘ ছয় বছর পর সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ হলো। এই জয়ে বরিস বেকারের পর ওপেন যুগে মাত্র দ্বিতীয় জার্মান পুরুষ হিসেবে ইউএস ওপেন জয়ের কীর্তি গড়লেন তিনি। ম্যাচটিতে শেলটনের বিরুদ্ধে জভেরেভের দুর্দান্ত সার্ভিসই মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। প্রথম দুই সেটে নিজের প্রথম সার্ভের ৪২টির মধ্যে ৩৯টিতেই পয়েন্ট তুলে নেন তিনি। যদিও তৃতীয় সেট হেরে ম্যাচ কিছুটা দীর্ঘায়িত করেন শেলটন। তবুও চতুর্থ সেটে আর কোনো সুযোগ দেননি জার্মান খেলোয়াড়।

এ জয়ের পেছনে নিজের বাবা ও কোচ আলেকজান্ডার সিনিয়র এবং মায়ের অবদানকে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন জভেরেভ। ছোটবেলায় টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর চিকিৎসকরা যখন তার খেলাধুলা সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন, তখন তার মা অবিচল থেকে বলেছিলেন, ‘আমার ছেলে যা হতে চায়, সে তাই হবে।’ মায়ের সেই আত্মবিশ্বাসই আজ তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা অ্যাথলেটে পরিণত করেছে।
বর্তমানে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান থেকে জভেরেভ শীর্ষের সিনারের চেয়ে ১,৮১০ পয়েন্ট পেছনে রয়েছেন। সামনে দুটি মাস্টার্স ১,০০০ ইভেন্ট এবং এটিপি ফাইনালস থাকায় ১ নম্বর হওয়ার লড়াইয়ে দারুণ সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
অন্যদিকে, ফাইনালে পরাজয়ের পর নিজের হতাশা প্রকাশ করে শেলটন বলেন, ‘আমি যে অগ্রগতি অনুভব করছি, তা নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত। তবে এই হার শতভাগ কষ্ট দিচ্ছে।’ জভেরেভের কাছে হেরে গেলেও ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে পৌঁছানোয় গর্বিত এই মার্কিন তরুণ। উইম্বলডনের প্রথম রাউন্ডের হতাশা কাটিয়ে কানাডিয়ান ওপেন জয় এবং কার্লোস আলকারাজের মতো তারকাদের হারিয়ে র্যা ঙ্কিংয়ের চার নম্বরে উঠে আসা তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অতিরিক্ত ভুল করাটাই তার পরাজয়ের মূল কারণ ছিল বলে জানান শেলটন।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions