
ডেস্ক রির্পোট:- পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিবছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস ঘিরে একটি বিশেষ অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা লক্ষ্য করা যায়। বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফসহ কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে ভুয়া ধর্ষণ বা মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়।
উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে খাগড়াছড়িতে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় এক বাঙালি যুবককে হত্যার পর প্রতিবাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ কর্তৃক সৃষ্ট উত্তেজনায় দীঘিনালা ও রাঙ্গামাটির বনরূপায় দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মসজিদে হামলার মতো সহিংস ঘটনা ঘটানো হয়। একইভাবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালায় অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগে বাঙালিদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়, যা পরবর্তীতে মেডিকেল রিপোর্টে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে এবং সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিয়ে ইউপিডিএফ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো পাহাড়ের শান্ত পরিবেশকে নাজুক করতে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিতর্কিত করতে মরিয়া থাকে।
বিগত ২ বছরের ঘটনায় খাগড়াছড়ি ও গুইমারা ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়। যেখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও বাঙালিদের ওপর হামলা হয়। এসময় ইউপিডিএফ এর হামলায় পাহাড়ি বাঙালিদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে৷ এসব ঘটনার জন্য স্থানীয় সচেতন মহল ইউপিডিএফ ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠন পিসিপি এবং ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ ব্যানারকে দায়ী করেন।
এসব অতীত সহিংসতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মাথায় রেখে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে খাগড়াছড়িতে এক বিশেষ নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেএম ওবায়দুল হক।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে কোনো উস্কানিদাতা যেন পরিবেশ ঘোলাটে করতে না পারে, সেজন্য আগাম গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিশেষ করে আসন্ন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবর দানোৎসব সুষ্ঠুভাবে উদযাপন এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সার্বক্ষণিক যৌথ পর্যবেক্ষণ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত সভায় ডিজিএফআইয়ের ডেট কমান্ডার কর্নেল মাহফুজ উল বারী, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাসান মারুফসহ বিজিবি ও বিভিন্ন সেনা জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থেকে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।