শিরোনাম
হৃদরোগের চিকিৎসায় পেসমেকারসহ তিন ধরনের সরঞ্জামের দাম কমলো শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে শিবা সানু-জয় চৌধুরী গুম প্রতিরোধে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে আলাদা আইন করছে সরকার রাঙ্গামাটিতে ৩৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, সরকারি কোষাগারে ফেরত গেল ৫১ লাখ টাকা মিয়ানমারের মংডুতে সামরিক জান্তার বিমানবাহিনী ও মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত সামরিক তৎপরতার দাবি বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা দিয়েে আসছে অস্ত্র, খুন উদ্বেগ নোয়াখালীতে ৩ সন্তানকে রেখে ইমামের সঙ্গে পালালেন প্রবাসীর স্ত্রী ফুটবল নয়, এ যেন রূপকথা সাইক্লিস্ট রাকিবুল ও কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংকের মানবিকতায় বদলে গেল এক পরিবারের জীবন

গুম প্রতিরোধে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে আলাদা আইন করছে সরকার

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ২০ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে সংসদে অনুমোদন না করায় কার্যকারিতা হারিয়েছে। এখন সরকার গুমকে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আলাদা আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এরই মধ্যে আইনটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সেই খসড়া নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এতে বাতিল হওয়া অধ্যাদেশের কিছু বিধানে পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। নতুন আইনের খসড়ায় সর্বোচ্চ সাজা অধ্যাদেশের মতোই মৃত্যুদণ্ড রাখা হলেও কারাদণ্ডের বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া তদন্তকারী সংস্থার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ছাড়াও বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। আইনের খসড়া নিয়ে অনেকে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
সূত্র জানায়, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনটির খসড়া নিয়ে দুই-তিন দিনের মধ্যে আরেকটি বৈঠক হবে। সেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মিশন প্রধান ও উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত থাকবেন। তাদের কাছে নতুন আইনের বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হবে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি পাঁচ বছরের বেশি নিখোঁজ থাকলে আদালত থেকে তাঁর পরিবার একটি সনদ নিতে পারবে। সেখানে গুম হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হবে। ওই ব্যক্তির অবর্তমানে তাঁর উত্তরাধিকারের মধ্যে সম্পদ বণ্টন ও ব্যাংকিং লেনদেন-সংক্রান্ত নথিপত্রে স্বজনরা আইনি সহায়তা পাবেন।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি যে কোনো সংস্থার সদস্যদের মাধ্যমে বিস্তৃত, পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে কাউকে তুলে নেওয়ার ঘটলে তার তদন্ত করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। আর অন্য সাধারণ গুমের ঘটনা তদন্ত করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশে এই ধরনের গুম তদন্তের দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া তৈরির সঙ্গে যুক্ত আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, খসড়ায় চারটি বিষয়কে গুমের অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে গুম, গুমের কারণে মৃত্যু, আলামত নষ্ট, গোপন আটকখানা তৈরি। এ ছাড়া গুমের সহযোগিতার বিষয়টিও থাকছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, খসড়া অনুযায়ী পাঁচ বছর নিখোঁজ রয়েছেন এমন কোনো ব্যক্তির স্বজন মামলা করলে তার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে গৃহীত হলেই গুম সনদ দেওয়া হবে। ওই সনদ দিয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর, বেচাকেনা ও উত্তরাধিকারদের মধ্যে ভাগ-বণ্টন করতে পারবেন।

সূত্র বলছে, সরকারে কর্মরত রয়েছেন এমন কোনো সদস্য ধারাবাহিক গুমে জড়িত না হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে যদি একই ধরনের অপরাধে জড়ান, তাহলে সেই অপরাধের তদন্ত করবে পুলিশ। কেবল ধারাবাহিকভাবে পদ্ধতিগত গুমের অভিযোগ তদন্ত করবে আইসিটি। গুমের অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা হবে মৃত্যুদণ্ড। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৈরি গুমের অধ্যাদেশে পদ্ধতিগত গুম ছাড়া অন্য গুমের তদন্ত মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের বাইরে আইনের খসড়ায় নতুন যেসব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে– গুমের সাজা সর্বনিম্ন ১০ বছর রাখার বিধান। আগে এটি ছিল অনধিক ১০ বছর। এ ছাড়া গুমের ঘটনার তদন্ত শেষ করতে হবে ৯০ দিনের মধ্যে; তবে নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত না করতে পারলে সময় ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। এর পরও ব্যর্থ হলে আদালতকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এ ছাড়া বিচার শেষ করতে হবে ১২০ দিনে। নির্দিষ্ট সময় বিচার সম্পন্ন করতে না পারলে তিন দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টকে অবহিত করতে হবে।

অপর একটি সূত্র জানায়, পদ্ধতিগত গুমের ঘটনায় যেসব ভুক্তভোগীর মামলার তদন্ত আইসিটি করবে, সেসব ভুক্তভোগীর স্বজনদের সনদ যাতে আইসিটিই দিতে পারে– সে জন্য আইন সংশোধনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভুক্তভোগীর কষ্ট কমাতে আইসিটিতে চলমান তদন্তাধীন মামলায় বাদীপক্ষ যেন ওই আদালত থেকেই তার স্বজনের গুমের সনদ পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই প্রস্তাব আসে। এ ছাড়া পুলিশ গুমের ঘটনায় যেসব মামলার তদন্ত করবে তাদের স্বজনদের সনদ দেবে বিচারিক আদালত।

মাসখানেক আগে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে একটি কর্মশালা হয়। সেখানে প্রথম গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনের খসড়ার ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব খসড়া আইনের বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারা তাদের মতামত দেন।
একাধিক সূত্র বলছে, প্রচলিত দণ্ডবিধি সংশোধন করেই গুমের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা যায় কিনা, কেউ কেউ এমন মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি ছিল, বলপূর্বক গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষরিত অনেক দেশ তাদের প্রচলিত আইন সংশোধন করেই গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করেছে। তারা পৃথক আইন করেনি।

হেফাজতে নিবারণ আইনসহ কিছু আইনকে একত্রিত করে নতুন আইন তৈরির মধ্য দিয়ে সেখানে গুমের শাস্তি নিশ্চিত করা যায় বলেও মত দিয়েছেন কেউ কেউ। তাদের যুক্তি ছিল– কয়েকটি অপরাধকে গুচ্ছভিত্তিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, যেসব অপরাধের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা থাকে। হেফাজতে মারা যাওয়ার ঘটনাটিও একই ধরনের। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযুক্ত হয়ে থাকেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খসড়া আইনের অনেকের মতামত বৈঠকে জানার পর গুমকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আলাদা আইন করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তবে গুম কমিশন থাকবে না।
জানতে চাইলে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, গুমের তদন্ত মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া যেতে পারে। সেখানে মানবাধিকারকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, বিশিষ্টজন থাকতে পারেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুমের ঘটনার তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হলে তাতে ভালো ফল আসবে বলে মনে হয় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তাদের দিয়ে তদন্ত করালে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে।

নূর খান লিটন আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুমের বিষয়টি যেভাবে দেখেছে সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সেখানে কোনো ক্রটি হলে তা আলোচনা করে সংশোধন করা যেতে পারে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে বিভিন্ন বাহিনীর মাধ্যমে অনেক মানুষকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবির মুখে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে। গুমের ঘটনায় র‍্যাব ও ডিজিএফআইর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলার বিচারকাজ চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এই অধ্যাদেশ অনুমোদন করতে বিল উত্থাপন না হওয়ায় তা বাতিল হয়ে গেছে। আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় ওই অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস না করে নতুন করে সংশোধিত আকারে প্রণয়নের মত দেওয়া হয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে। পাঁচ সদস্যের এ কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৩১২ নেতাকর্মী গুমের শিকার হন। যাদের ১০৭ জন আর ফেরেননি। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরের ৭৪৭ নেতাকর্মী গুম হয়েছেন। তাদের মধ্যে ফেরেননি ৩৫ জন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুম থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিদের ৯৪৮ জনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সমকাল

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions