শিরোনাম
শিগগিরই চালু হচ্ছে সাজেকের পাহাড়চূড়ায় ১০ শয্যার হাসপাতাল দিল্লি জুড়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি: পূজার আগে উসকানির আশঙ্কা করছে পুলিশ কেপিএমসহ দেশের সব রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনে ফিরাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার– বিসিআইসি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া: ছাত্ররাজনীতি থেকে  পার্বত্য উন্নয়নের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নেতার গল্প রাঙ্গামাটিতে কাউখালীতে রদীয় দূর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা মারিশ্যা জোনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ, সেলাই মেশিন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান রাঙ্গামাটিতে ৫৩ মোবাইল ও ভুলে পাঠানো টাকা উদ্ধার করে ফেরত দিল ১৮ এপিবিএন রাঙ্গামাটিতে ছাত্রলীগ নেতা ও মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ১২

সমতলে বাড়ছে পাহাড়ি হলুদের কদর, বাজার প্রায় ৩০০ কোটি টাকার

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
  • ২৭৪ দেখা হয়েছে

রাঙ্গামাটি:- রান্নার অন্যতম অনুষঙ্গ মসলার নাম ‘হলুদ’। হলুদ ছাড়া রান্নার কথা চিন্তা করা যায় না। ভাল হলুদ মানে ভাল রান্না। মূলত রান্নার স্বাদ এবং রান্নায় ভাল কালার তৈরিতে হলুদের কোন বিকল্প নেই। যে হলুদ যত ভাল সেই রান্না তত সুস্বাদু হয়ে থাকে। তাই রাঁধুনীরা রান্নার জন্য ভাল হলুদ সংগ্রহ করে।

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে স্থানীয় বাসিন্দারা সেই আদিকাল থেকেই জুমে অন্যান্য ফসলের সাথে হলুদের চাষ করে থাকে। পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া মসলাজাতীয় ফসল উৎপাদনের জন্য খুবই উপযোগীও বটে।

রঙ, স্বাদ, সুগন্ধির কারণে পাহাড়ে উৎপাদিত হলুদের চাহিদা দেশজুড়ে। এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ সারা দেশে সরবরাহ হচ্ছে মসলা জাতীয় এ পণ্য। পাহাড় মাড়িয়ে সমতলে দিন দিন পাহাড়ি হলুদের ব্যাপক চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় চাষীরা পাহাড়ের পাদদেশে, বাড়ির আঙ্গিনায় হলুদের বাণিজ্যিক চাষ বাড়িয়েছে। বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে হলুদের বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে প্রায় তিনশো কোটি টাকা।

চৈত্র-বৈশাখ মাসে পাহাড়ে হলুদের চাষ করা হয় এবং ফাল্গুন মাস থেকে হলুদ সংগ্রহ করা করে শুকানো হয়। চাষীরা এসব শুকনা হলুদ বাজারে নিয়ে আসে। স্থানীয়রা পাইকাররা এসব হলুদ সংগ্রহ করে ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে গিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বাইরের পাইকাদের কাছে বিক্রি করে।

জেলার চলতি মৌসুমে প্রতিকেজি শুকনো হলুদ পাইকারী দামে ২৫০ থেকে ৩০০শ’ টাকায় বিক্রি করছে। আর প্রতিমণ হলুদ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে নয় থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

জেলার সবচেয়ে বড় হলুদের বাজার সাফছড়ি ইউনিয়নের ‘কুতুকছড়ি হাট’। এখান থেকে পাইকাররা দরদাম করে হলুদ সংগ্রহ করে বাইরে নিয়ে যায়। স্থানীয়, বাইরের পাইকাররা এ হাটে প্রতিদিন ভীড় করে।

হলুদ চাষী বিক্রম চাকমা বলেন, গত বছরের মতো এ মৌসুমেও হলুদের ভাল দাম পাচ্ছি। প্রতিমণ শুকনো হলুদ মানভেদে নয় থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

কুতুকছড়ি হাটে আসা হলুদ ব্যবসায়ী জাফর সাদিক বলেন, পাহাড়ি হলুদ রঙ, স্বাদে অনন্য। সমতলে এখানকার হলুদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যে কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে এখান থেকে হলুদ সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে অর্ডার অনুযায়ী সারাদেশে বিক্রি করি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি জেলা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুই হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ করা হয়েছে এবং এখান থেকে হলুদ উৎপাদন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিকটন। ভাল ফলন পাওয়া গেছে। যার বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা।

কৃষি অফিস বলছে, পাহাড়ি এলাকার মাটি ও আবহাওয়া মসলাজাতীয় ফসলের জন্য উপযোগী হওয়ায় রাঙামাটির বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জমিতে ব্যাপক হারে হলুদের আবাদ হচ্ছে। অল্প খরচ, কম শ্রম এবং বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের কাছে হলুদ একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ বছর রাঙামাটিতে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিকটন হলুদ উৎপাদন হয়েছে। পাহাড়ে হলুদের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে উৎপাদন আরও বাড়বে এবং মাটি ক্ষয়ও কমবে।

তিনি আরও বলেন, বাইরে পাহাড়ি হলুদের বড় বাণিজ্য সৃষ্টি হয়েছে, পাহাড়ি পতিত জমিতে হলুদের চাষ বাড়ানো গেলে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।পার্বত্য নিউজ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions