শিরোনাম
শিগগিরই চালু হচ্ছে সাজেকের পাহাড়চূড়ায় ১০ শয্যার হাসপাতাল দিল্লি জুড়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি: পূজার আগে উসকানির আশঙ্কা করছে পুলিশ কেপিএমসহ দেশের সব রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনে ফিরাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার– বিসিআইসি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া: ছাত্ররাজনীতি থেকে  পার্বত্য উন্নয়নের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নেতার গল্প রাঙ্গামাটিতে কাউখালীতে রদীয় দূর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা মারিশ্যা জোনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ, সেলাই মেশিন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান রাঙ্গামাটিতে ৫৩ মোবাইল ও ভুলে পাঠানো টাকা উদ্ধার করে ফেরত দিল ১৮ এপিবিএন রাঙ্গামাটিতে ছাত্রলীগ নেতা ও মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ১২

আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া: ছাত্ররাজনীতি থেকে  পার্বত্য উন্নয়নের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নেতার গল্প

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৯ দেখা হয়েছে

এসএম শামসুল আলম:— পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া একটি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচিত নাম। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে যাত্রা শুরু করে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব, সংসদ সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব—বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন।

রামগড় থেকে রাজনীতির যাত্রা—-
আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার জন্ম ১৯৬৫ সালের ৫ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির রামগড় এলাকায়। তাঁর পিতা ছালেহ আহম্মদ ভূঁইয়া এবং মাতা বিয়া ছালেহ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। বিভিন্ন জীবনীভিত্তিক সূত্র অনুযায়ী, ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রামগড় রাজনৈতিক জেলা শাখার নেতৃত্বে ছিলেন। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সঙ্গেও যুক্ত হন এবং ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯০ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত রামগড় রাজনৈতিক জেলা যুবদলের সভাপতি ছিলেন।
এই সময়টিই তাঁর রাজনৈতিক ভিত গড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে ধীরে ধীরে খাগড়াছড়ির বৃহত্তর রাজনীতির সামনে নিয়ে আসে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে
ওয়াদুদ ভূঁইয়ার রাজনৈতিক উত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ১৯৮৯ সালের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে তিনি সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে তিনি পদত্যাগ করেন।
এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর সরাসরি অংশগ্রহণ শুরু হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও প্রথম দফায় পরাজয়ের পর একই বছর অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন।
অর্থাৎ ২০২৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালে।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব——
১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই জাতীয় সংসদে খাগড়াছড়ির প্রতিনিধিত্ব করেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া। ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসর আরও বিস্তৃত হয়।
২০০১ সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বগুলোর একটি ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ। সরকারি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০২ থেকে ২২ নভেম্বর ২০০৬ পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন।
এই দায়িত্ব পালনকালে পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত হয়। তাঁর সমর্থকদের দাবি, ওই সময় খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটে।
বিএনপির জেলা নেতৃত্বে উত্থান—-
জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি খাগড়াছড়ি বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বেও ওয়াদুদ ভূঁইয়ার অবস্থান শক্ত হয়। তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং একই সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। পরে কেন্দ্রীয় বিএনপিতে সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
দীর্ঘ সময় ধরে জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থাকায় খাগড়াছড়িতে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো তৈরিতে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
পাহাড়ের রাজনীতিতে পরিচিতি—-
ওয়াদুদ ভূঁইয়ার রাজনৈতিক পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর অবস্থান। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরোধিতা করে বিএনপির তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। ওই সময়কার লংমার্চ কর্মসূচির তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
এ কারণে পাহাড়ের রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি কেবল বিএনপির একজন জেলা নেতা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অধিকার, পাহাড়ি-বাঙালি সম্পর্ক, ভূমি ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক কাঠামো নিয়েও তাঁর অবস্থান তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।
তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি পাহাড়ে বিএনপির অন্যতম প্রধান সংগঠক।
উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততার দাবি—–
সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকার সময় শিক্ষা, যোগাযোগ, কৃষি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা তাঁর নির্বাচনী হলফনামাতেও উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি দাবি করেন, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করেছেন।
তাঁর রাজনৈতিক অনুসারীদের বক্তব্য, পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জনসম্পৃক্ততা বজায় রেখেছেন। তাঁর নিজের রাজনৈতিক বক্তব্যেও খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালির সহাবস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।

দীর্ঘ বিরতির পর আবার সংসদে—–
২০০৬ সালের পর ওয়াদুদ ভূঁইয়ার রাজনৈতিক জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা হয় এবং পরে আদালতে দণ্ডিতও হন। তবে ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট হাইকোর্ট ওই মামলায় তাঁর আপিল মঞ্জুর করে তাঁকে খালাস দেন এবং আগের দণ্ড বাতিল হয়।
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তাঁর হলফনামায় ২৬টি ফৌজদারি মামলার উল্লেখ ছিল; সেখানে ২১টি মামলা থেকে অব্যাহতি, চারটিতে খালাস এবং একটি মামলা নথিজাত অবস্থায় থাকার তথ্য দেওয়া হয়।
২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী ছিলেন না। এরপর দীর্ঘ সময় জাতীয় সংসদের বাইরে থাকার পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবার খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী হন।

তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য—–
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। প্রকাশিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৫১ হাজার ৪০ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেন।
বিজয়ের পর ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, তাঁর বিজয় খাগড়াছড়ির জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। তিনি পাহাড়ি-বাঙালির সহাবস্থান বজায় রাখা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির কথা বলেন।

নতুন দায়িত্বে নতুন অধ্যায়—-
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হয়। জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংসদে কণ্ঠভোটে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
এই দায়িত্বের কারণে তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকা শুধু খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত জাতীয় নীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি কার্যক্রমের সংসদীয় তদারকি এবং পাহাড়ের মানুষের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

বর্তমান অবস্থান–+
২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।
সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর জনসম্পৃক্ততার একটি দৃষ্টান্ত দেখা যায় দীঘিনালায় বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে। আগস্ট ২০২৬-এর এক অনুষ্ঠানে তিনি মাদক, চাঁদাবাজি ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা নিয়েও বক্তব্য দেন।

পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা—–
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর তৃতীয়বার সংসদ সদস্য হয়ে এবার ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সামনে প্রত্যাশার পরিধিও বড়। খাগড়াছড়ির দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, কর্মসংস্থান, কৃষি ও পর্যটন, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা, পাহাড়ি-বাঙালি সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংকট—এসব বিষয় তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের পর তিনি খাগড়াছড়িকে আধুনিক ও পর্যটননির্ভর নগরীতে রূপান্তর, পাহাড়ের উন্নয়ন এবং সব জনগোষ্ঠীর সহাবস্থানের কথা বলেছেন।
অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর বর্তমান দায়িত্বকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কতটা নতুন উন্নয়ন বাস্তবতায় রূপ নেয়, বিশেষ করে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা কতটা সমন্বিতভাবে পূরণ হয়—সেটিই এখন তাঁর সামনে বড় পরীক্ষা।

উপসংহার—
রামগড়ের ছাত্ররাজনীতি থেকে যাত্রা শুরু করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, দুই দফা সংসদ সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরতির পর আবার সংসদ সদস্য—আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার রাজনৈতিক জীবন মূলত কয়েক দশকের উত্থান-পতনের একটি ধারাবাহিক গল্প।
১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬—তিন দফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় মাইলফলক। আর ২০২৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বর্তমান অধ্যায়কে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে কীভাবে খাগড়াছড়ি তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, জননিরাপত্তা, সম্প্রীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজে লাগানো যায়। সেই উত্তরই আগামী দিনে পাহাড়ের রাজনীতিতে আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ভূমিকার মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠবে।

লেখক:
এসএম শামসুল আলম
স্টাফ রিপোর্টার, যমুনা টেলিভিশন
সাবেক সভাপতি, রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাব
smshamsu.cht@gmai.com

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions