
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:- খাগড়াছড়ির মহালছড়ি ও মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত দুই স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, দায়িত্ব পালনে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের অন্যত্র বদলি বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখা।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত মঞ্জুরুল ইসলাম তালুকদার এবং মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত পুলক চক্রবর্তীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন সরকারি টিকাদান কর্মসূচির বরাদ্দের অর্থ বিতরণে অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
বিশেষ করে ২০২৬ সালের হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনে অন্যান্য উপজেলায় ওয়ার্ডপ্রতি প্রায় ৮ হাজার ৪০০ থেকে ৯ হাজার ২৩৩ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা ওয়ার্ডপ্রতি মাত্র ৩ হাজার ৭৫০ টাকা করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি।
এছাড়া HPV ও TCV টিকাদান ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে টিকাদানকারী ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাপ্য অর্থ যথাযথভাবে বিতরণ না করার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে মঞ্জুরুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে মহালছড়ি ও মাইসছড়ি বাজারের ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বাসিন্দা সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করার দাবি জানিয়েছে অভিযোগকারী সংগঠন।
এদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়াও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেছেন।

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সহকারী এ্যাসোসিয়েশন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত অভিযোগে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং তাদের খাগড়াছড়ি জেলা থেকে অন্যত্র বদলি বা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত মঞ্জুরুল ইসলাম তালুকদার ও পুলক চক্রবর্তীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।