শিরোনাম
পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বয় সভা; সুযোগ সন্ধানী ইউপিডিএফ কি থামবে? চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে তরুণকে ধাওয়া করে গুলি আগামী অর্থবছরের সময়কাল এপ্রিল থেকে মার্চ ঢাকায় আসছে ভারতের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখে অভিনেত্রী রিধিকার আত্মহত্যা সরকারের ৬ মাস পূর্তিতে মতবিনিময়,ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে সিরিয়ায় সামরিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা, অভিযোগের তীর ইসরাইলের দিকে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি ঘোষিত : সভাপতি কবির হোসেন , সম্পাদক ঝুলন দত্ত রাঙ্গামাটিতে ১২ বছরের স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, যুবক আটক ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার ২১ বছর আজ

৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার ২১ বছর আজ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ দেখা হয়েছে

শামসুল আলম:- আজ ১৭ আগস্ট। ২০০৫ সালের এই দিনে দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ ও নজিরবিহীন সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়। মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাড়া দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে এই হামলা হয়। মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলের আশপাশে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)।
সেদিন সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০টি স্পটে সাড়ে চার শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আদালত প্রাঙ্গণ, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, প্রেসক্লাব ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে এসব বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
সিরিজ বোমা হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে আইনজীবী, পুলিশ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষও ছিলেন। বিস্ফোরণের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরু করে ব্যাপক অভিযান ও তদন্ত।
জেএমবির নাম সামনে আসে
তদন্তে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে। হামলার পর বিভিন্ন স্থানে জেএমবির প্রচারপত্র ও লিফলেট পাওয়া যায়। এসব লিফলেটে সংগঠনটির নানা বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছিল। একই সময়ে দেশের বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে হুমকিমূলক বার্তাও দেওয়া হয়।
একযোগে এতগুলো স্থানে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তী সময়ে জেএমবির নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে দেশব্যাপী অভিযান চালানো হয়।
আদালতে বিচার
সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় পৃথক মামলা হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পর অনেক মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
২০০৫ সালের এই হামলার পর বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় এবং অনেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আতঙ্কের সেই দিন
২১ বছর পরও ১৭ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ভয়াবহ দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। একই সময়ে দেশের প্রায় সব জেলায় বিস্ফোরণ ঘটানোর ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও অনেকের মনে দাগ কেটে আছে।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, তরুণদের মধ্যে উগ্রবাদবিরোধী মূল্যবোধ তৈরি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলা তাই শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নয়—এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ অধ্যায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions