
ডেস্ক রির্পোট:- ভারতে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় নতুন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে আন্দোলনের এই সাফল্যের পরও এখনই পূর্ণকালীন রাজনীতিতে নামার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
তারা মনে করেন, আপাতত তরুণদের আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। যদিও ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি সিজেপির নেতারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস আন্দোলনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।
আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। তাই আপাতত বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং গত দুই মাসের ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য গর্বের, আনন্দের এবং স্বস্তির একটি মুহূর্ত। এরপর পরিস্থিতি যেদিকে যাবে, সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে রাঙ্কা বলেন, ‘ভারতে কোনো বিষয়েই কখনো ‘না’ বলা উচিত নয়।’
অন্যদিকে সিজেপির আরেক মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক দল গঠন তাদের অগ্রাধিকার নয়। তার ভাষায়, ‘দেশে ইতোমধ্যে ৭৫০ থেকে ৮০০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু তরুণদের প্রত্যাশা পূরণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তারা তরুণদের দাবি পূরণে বাধ্য হয়।’
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দিনই বিজেপির সভাপতি জে.পি. নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপির নেতাদের চূড়ান্ত বৈঠক হয়।
আশুতোষ রাঙ্কা জানান, বৈঠকের পরিবেশ আগের আলোচনার তুলনায় অনেক বেশি ইতিবাচক ছিল। তাদের প্রতিনিধি দল বৈঠকে পৌঁছানোর আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছিলেন। আলোচনায় মূলত বাকি দুটি দাবি নিয়ে কথা হয় এবং দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়। সরকারের ইতিবাচক মনোভাব এবং দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
চূড়ান্ত আলোচনায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। রাঙ্কা বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। শুরু থেকেই সিজেপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে ছিল। সমঝোতা অনুযায়ী আন্দোলনকারী ও সংগঠকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা হবে না। এ বিষয়ে শিগগিরই লিখিত চুক্তি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকার এত দিন পর কেন দাবি মেনে নিল-এমন প্রশ্নে রাঙ্কা বলেন, এর উত্তর সরকারের কাছ থেকেই পাওয়া উচিত। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের ৩০ দিন রাস্তায় থাকতে হলো কেন এবং ২০ জুলাইয়ের ঘটনার পরও সরকার আগে উদ্যোগ নিল না কেন-এই প্রশ্ন তারা সরকারকেও করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের নেতারা পেশাজীবী মানুষ; তারা কেউ অভিজ্ঞ আন্দোলনকারী বা রাজনীতিবিদ নন। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে পড়াশোনা করছিলেন। আন্দোলন না হলে হয়তো তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিতেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান তার পদত্যাগপত্রে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিছু গোষ্ঠী আন্দোলনকে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। এ প্রসঙ্গে রাঙ্কা বলেন, তিনি আশা করেন সরকার আন্দোলনকারীদের আর ‘দেশবিরোধী’ বা ‘ভাইরাস’ বলে আখ্যায়িত করবে না। তার ভাষায়, ‘শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আশা করি, আমাদের আর দেশবিরোধী বলা হবে না।’