সাংবাদিক কন্যার মৃত্যু: ছয় বছর পর চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০২৪
  • ৫৮ দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম:- চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু রাফিদা খান রাইফাচিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু রাফিদা খান রাইফা। ছবি: সংগৃহীত
ছয় বছর আগে দেশজুড়ে তোলপাড় তোলা সাংবাদিক কন্যার মৃত্যুর ঘটনায় চার চিকিৎসককে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ওই শিশুর চিকিৎসায় অবহেলার সাক্ষ্যপ্রমাণ পেয়ে আজ সোমবার পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক নগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে ওই শিশুর মৃত্যুর হয়। অভিযুক্ত চার চিকিৎসক হলেন—হাসপাতালের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খান, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরী ও ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত এবং হাসপাতালের তৎকালীন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শুভ্র দেব।

এ বিষয়ে পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, যাবতীয় নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই–বাছাই করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, শিশুটির মৃত্যুতে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অবহেলা ছিল। যারা এ অবহেলায় জড়িত ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসায় মোট চারজন চিকিৎসক যুক্ত ছিলেন। তাঁরা কেউই অবহেলাজনিত মৃত্যুর দায় এড়াতে পারেন না।

দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ও ১০৯ ধারায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গলায় সামান্য ব্যথা নিয়ে ২০১৮ সালের ২৮ জুন বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রাফিদা খান রাইফাকে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বিধান রায়ের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।

অভিভাবকেরা শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন, ভুল চিকিৎসায় রাইফার মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের ব্যানারে সাংবাদিক সংগঠনগুলো এ ঘটনার বিচার চেয়ে রাস্তায় নামে। চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনও (বিএমএ) পাল্টা কর্মসূচি শুরু করে। চিকিৎসকেরা রোগীদের সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এরই মধ্যে র‍্যাবের একটি দল ও ঔষধ প্রশাসন ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রামের তৎকালীন সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি হয়। ওই বছরেরই ১৮ জুলাই চকবাজার থানায় হাসপাতালের চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন সাংবাদিক রুবেল খান। দুদিন পর ২০ জুলাই পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। মামলায় উল্লেখিত চার চিকিৎসককেই আসামি করা হয়।

এজাহারে রুবেল খান অভিযোগ করেন, চার চিকিৎসকের অবহেলা ও গাফিলতিতে রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় না হওয়া এবং ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও অতিরিক্ত মাত্রায় সেডিল প্রয়োগের কারণে তাঁর আড়াই বছর বয়সী মেয়ে মৃত্যু হয়েছে।

এসব ঘটনার মধ্যেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তদন্তের পর অভিযোগপত্র দাখিল করল সংস্থাটি।

অভিযুক্ত চার চিকিৎসক উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

এ বিষয়ে সাংবাদিক রুবেল খান বলেন, ‘আমার একমাত্র কলিজার ধন কেড়ে নিয়েছে যারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে দায়ী শনাক্ত করেছেন পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা। মেয়েকে তো আর ফিরে পাব না। কিন্তু এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক এটাই চাইব আমি, যাতে আর কোনো মা বাবার বুক খালি না হয়!’

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions