শিরোনাম
খাল খননে আশার আলো দেখছে পাহাড়ের মানুষ রাঙ্গামাটিতে বয়স্ক বন্য হাতির মৃত্যু, পাশে শোকে কাতর সঙ্গী হাতি রাঙ্গামাটিতে যৌথ অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রামে পাঁচজনসহ দেশে হাম উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হাসপাতালে দৌরাত্ম্য ওষুধ কোম্পানির দেশে আবারও সক্রিয় হচ্ছে জঙ্গি নেটওয়ার্ক? ​হোটেল লবিতে বন্দুকধারীর গুলি, বিকট শব্দ, নৈশভোজ থেকে সরিয়ে নেয়া হলো ট্রাম্পকে চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলায় ‘বাঘা’ শরীফ তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক ৫ অর্থের অভাব নয়, স্বপ্নই জিতল—বরকলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পাশে পার্বত্য মন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ

খাল খননে আশার আলো দেখছে পাহাড়ের মানুষ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৬ দেখা হয়েছে

শামসুল আলম,রাঙ্গামাটি::- সরকারের দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাঙ্গামাটিতেও শুরু হয়েছে ব্যাপক খাল খনন কার্যক্রম। এতে যুক্ত হয়েছে শতশত গ্রামবাসী। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কাজ এগিয়ে চলেছে জোরেশোরে। এই উদ্যোগে যেমন আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ, তেমনি দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, ফসলহানি ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আশাও দেখছেন তারা।

সারিবদ্ধভাবে নারী-পুরুষ একসাথে খাল খননে ব্যস্ত—এমন দৃশ্য এখন রাঙ্গামাটির বিভিন্ন ইউনিয়নে। কুতকছড়ি থেকে সাপছড়ি ইউনিয়ন পর্যন্ত মাউরুম খালের খননকাজে দিনভর শ্রম দিচ্ছেন গ্রামবাসী। মুখে হাসি, মনে আশার আলো—খাল খননের এই কর্মযজ্ঞে অংশ নিতে পেরে সন্তুষ্ট তারা।


দীর্ঘদিন ধরে মাটি ভরাট হয়ে অনেক খাল প্রায় মৃত হয়ে পড়েছিল। বর্ষা এলেই এসব খাল উপচে পানি উঠে প্লাবিত হতো ফসলি জমি, ডুবে যেত বসতঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হতো রাস্তা-ঘাট, নষ্ট হতো কৃষকের স্বপ্ন।
রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলার মধ্যে ৯ উপজেলায় মোট ১৮টি খাল খননের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রথম দফায় রাঙ্গামাটি সদরে ৪টি খাল খননের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ইতোমধ্যে ২টি খালের পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। এসব খাল কুতকছড়ি, সাপছড়ি, বন্ধুকভাঙ্গা ও বালুখালি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
খাল খননের কাজে যুক্ত হয়ে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন স্থানীয় শ্রমিকরা। এতে তাদের সংসারে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি তারা আশা করছেন—এখন আর বর্ষায় ডুবে যাবে না ঘরবাড়ি, নষ্ট হবে না ফসল।
“আগে বর্ষায় অনেক কষ্ট হইতো, ঘর ডুবতো, জমি নষ্ট হইতো। এখন খাল খনন হইলে পানি নামবে, আমাদেরও আয় হচ্ছে—আমরা খুব খুশি।”


স্থানীয়রা বলছেন, খাল খননের ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং এলাকার সার্বিক জীবনমান উন্নত হবে।
“এই খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমবে।”
“আমরা চাই খাল খননের পাশাপাশি দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হোক, যাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং খালগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়।”


এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপকার পাবে অন্তত ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
প্রথম ধাপে খনন করা হচ্ছে—মানিকছড়ি থেকে বড়পাড়া পর্যন্ত মানিকছড়ি খাল, কুতকছড়ি থেকে মোনতলা পর্যন্ত মাউরুম খাল, দ্বিমুখ্যা ছড়া থেকে ত্রিপুরা ছড়া পর্যন্ত শ্বৈলেশ্বরী খাল এবং কাইন্দ্যা পাড়া থেকে দোজরী পাড়া পর্যন্ত কাইন্দ্যা খাল—মোট ৪টি খাল, যার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩ কিলোমিটার।
পাহাড়ে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions