
স্পোর্টস ডেস্ক:- ফিফার বিপুল অর্থভান্ডার নিয়ে এবার সরাসরি চাপ তৈরি হলো সংস্থাটির ওপর। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে থাকা রিজার্ভ থেকে ২১১ সদস্য দেশকে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার দাবি তুলেছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা-অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক দুই সংস্থা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বহুল বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর সংস্থাটির সঙ্গে কনফেডারেশনগুলোর চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন এই দাবি সামনে এলো।
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে চিঠি দিয়ে এই দাবি জানিয়েছে উয়েফা ও কনকাকাফ। চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিফার নগদ রিজার্ভ থেকে ২১১ সদস্য সংস্থাকে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়া হোক।
বিবিসি স্পোর্টের হাতে আসা ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন উয়েফা সভাপতি অ্যালেক্সান্ডার সেফেরিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৬ মেয়াদ শেষে ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর কথা। ২০৩০ সালের পুরুষ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সংস্থার প্রয়োজন মেটাতে এই অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে ২০২৭-৩০ চক্রে ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেকের জন্য অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছে উয়েফা ও কনকাকাফ। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই অর্থ অবকাঠামো উন্নয়ন ও ফুটবলের বিকাশে ব্যয় করা হবে। তবে এর জন্য ফিফার রিজার্ভ থেকে এককালীন মোট ২.১১ বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে হবে। এটি নিয়মিত অর্থায়নের অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া হবে।
ফিফার নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ঘিরে কয়েক দিন ধরেই চলছে তীব্র বিতর্ক। বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিট বিক্রির স্বত্ব পরিচালনার জন্য নতুন একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। সেখানে একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ২১ শতাংশ মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনাও ছিল।
কিন্তু অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ব্যাপক বিরোধিতার মুখে মাত্র চার দিনের মাথায় সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়।
পরিকল্পনাটি প্রকাশের পর ইনফান্তিনো সদস্যদের জানিয়েছিলেন, তারা প্রস্তাবটিতে সমর্থন দিলে ৪০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়া হবে। প্রস্তাবে রাজি হলে প্রাথমিকভাবে ২০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার জন্য ফেডারেশনগুলোকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর সভাপতিদের কাছেও আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে উয়েফা ও কনকাকাফের এই প্রস্তাবকে সমর্থন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।