
ডেস্ক রির্পোট:- ১৮ মাসের মধ্যে আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের প্রথম কারখানা উৎপাদনে যাবে। প্রকল্পের শুরুতে চীনের অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে। পর্যায়ক্রমে এখানে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয় নিয়ে গতকাল সোমবার কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারায় প্রত্যাশিত চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। দুপুর ১২টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে স্পর্শ করে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, চীনের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ–বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চীনা বিনিয়োগকারী এবং দেশি–বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা : অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের যাত্রা শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এখানে বিনিয়োগের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। এর মাধ্যমে লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রথমত বিনিয়োগ, দ্বিতীয়ত বিনিয়োগ এবং তৃতীয়তও বিনিয়োগ। কারণ বিনিয়োগ বাড়লে দেশের অর্থনীতির চাকা আরো গতিশীল হবে, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ প্রকল্প বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর অঙ্গীকারের একটি বাস্তব প্রমাণ। দেশি–বিদেশি শিল্প বিনিয়োগ সহজ করতে অপ্রয়োজনীয় নিয়ম–কানুন কমিয়ে আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনের জন্য সরকারের দরজা ২৪ ঘণ্টা খোলা। বিনিয়োগ ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারকেও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এতে প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকেই প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষও এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাবে। চীনের সঙ্গে সহযোগিতা শুধু বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নেও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি আনোয়ারা অথবা চট্টগ্রামে একটি আধুনিক দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য চীনের রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান। বলেন, এই শিল্পাঞ্চলে গড়ে ওঠা কারখানাগুলোতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হলে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী জনশক্তিও তৈরি হবে।
আনোয়ারা এখন মাল্টিমোডাল হাব : বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আনোয়ারা এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাল্টিমোডাল হাবে পরিণত হয়েছে। এখানে বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, জাতীয় মহাসড়ক, কর্ণফুলী টানেল এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা একই স্থানে সংযুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আনোয়ারায় শুধু একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে না, বরং বাংলাদেশের শিল্পায়নের নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। এই শিল্পজোন প্রতিষ্ঠিত হলে আনোয়ারাসহ পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা ও আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটবে।
দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত এবং সরকার সত্যিকার অর্থেই বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ প্রকল্পের জন্য নিরাপদ, স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে নিরাপদ যোগাযোগ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
চীন–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে : বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও একই ধারাবাহিকতায় চীনা সরকারের সঙ্গে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিময় আরো কার্যকর করতে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছেন। চট্টগ্রামে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি আধুনিক, স্মার্ট ও প্রাণবন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের নতুন মানদণ্ড স্থাপিত হলো। আর সেই যাত্রা শুরু হলো চট্টগ্রাম থেকেই।
সহযোগিতার ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প : বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চট্টগ্রামের চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন চীন–বাংলাদেশ সহযোগিতার একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। ২০১৪ সালে প্রকল্পটি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় প্রকল্প–সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২০২২ সালে সমঝোতা স্মারক সই এবং বর্তমানে আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এক দশকের বেশি সময়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক আস্থার ফল এই প্রকল্প। এটি দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতি এবং গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বদলে যাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চেহারা : আনোয়ারার সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, কোরিয়ান ইপিজেডের পর চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন আনোয়ারার শিল্পায়নে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পায়নের প্রভাবে আনোয়ারাসহ পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের চেহারা বদলে যাবে। স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুরুতে বিনিয়োগ করবে ৩০ প্রতিষ্ঠান : অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন–সিআরবিসির প্রেসিডেন্ট ওয়াং বেনকিয়ান। তিনি বলেন, প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে চীনের অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠান এই শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমান সরকার প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ আইন–২০২৬ প্রণয়ন করেছে। নতুন আইন বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরো সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে চীন, ভারত এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তির সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারেন।
চীনা উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের যৌথ ঘোষণাপত্র এই শিল্পাঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করেছে। নতুন সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, এই শিল্পাঞ্চলে উন্নত অবকাঠামো, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, আকর্ষণীয় নীতিগত সুবিধা, ওয়ান স্টপ সার্ভিস এবং সহজ আর্থিক সেবা নিশ্চিত করা হবে।
১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানার উৎপাদন : সভাপতির বক্তব্যে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, প্রথমে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি জোনে উৎপাদন শুরু করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ১৮ মাসের মধ্যে জোনের প্রথম কারখানায় উৎপাদন দেখতে চান বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন। এরপর ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানায় উৎপাদন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। বাংলাদেশের শিল্পকারখানাগুলো চীন থেকে যে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, তার অধিকাংশ প্রস্তুত পণ্য নয়; বরং কাঁচামাল, কাপড়, এক্সেসরিজ, যন্ত্রাংশ এবং মেশিনারি তৈরির উপকরণ। তিনি বলেন, এসব পণ্য বাংলাদেশে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট চীনা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আনোয়ারায় উৎপাদন শুরু করে, তাহলে সরবরাহের সময় ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখ্যযোগ্যভাবে কমে যাবে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা আন্তর্জাতিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবেন।
আনোয়ারায় বন্দর, কর্ণফুলী টানেল, বিমানবন্দর ও জাতীয় মহাসড়কের সুবিধা কাছাকাছি থাকায় শিল্পাঞ্চলটি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আনোয়ারা ও চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে চীনা বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
পাল্টে যাবে এলাকার চিত্র : চায়না ইকোনমিক জোনের উদ্বোধন ও ভিত্তি স্থাপন ঘিরে আনোয়ারা ও কর্ণফুলীজুড়ে উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। কর্ণফুলী টানেলকেন্দ্রিক ব্যবসা–বাণিজ্য সম্প্রসারণের যে আশা ছিল তা চায়না ইকোনমিক জোনের মধ্য দিয়ে বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধেছেন।
চায়না ইকোনমিক জোনের মুখে রয়েছে এনসিসি ব্যাংক আনোয়ারা শাখা। এই শাখার ব্যবস্থাপক এস এম মঈন উদ্দীন আজাদ বলেন, কেইপিজেড, কর্ণফুলী টানেলের পর চীনা ইকোনমিক জোন চালুর আশায় ছিলেন এলাকাবাসী। ব্যবসায়িক লেনদেন পরিচালনায় দুই বছর আগেই পূর্ণাঙ্গ শাখা চালু করেছে এনসিসি। বেশ কিছু নতুন শিল্পকারখানা বন্দর ও টানেল সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখানে কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি : অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান লি চাংগে। এ সময় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ, হুমাম কাদের চৌধুরী, শাহজাহান চৌধুরী ও জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাব–লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এরপর সিইআইজেডের স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস উদ্বোধন, প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হয়।