শিরোনাম
শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ : স্পিকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি গঠন, গেজেট প্রকাশ সাইড লাইন থেকে আর গোল দেয়া যাবেনা, প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নের ট্রেন চালু করে দিয়েছে—দীপন তালুকদার দীপু বিবাহ বিচ্ছেদ পরবর্তী সন্তানের অভিভাবকত্ব: বাস্তবতা ও আইনি অনুসন্ধান পাহাড়ের সাংবাদিকতা: কষ্ট আছে, ঐক্য কোথায়? ৬ মাসে খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ মেট্রিক টন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১৬ বছরের কিশোর আটক ‎বান্দরবানে ইয়াবাসহ আটক-২ আওয়ামী লীগের পক্ষে ভুয়া খবর ছড়ানোর নেটওয়ার্ক শনাক্ত, ২৯ অ্যাকাউন্ট বন্ধ দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাইড লাইন থেকে আর গোল দেয়া যাবেনা, প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নের ট্রেন চালু করে দিয়েছে—দীপন তালুকদার দীপু

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ দেখা হয়েছে

রাঙ্গামাটি:- রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু বলেছেন, সাইড লাইন থেকে আর গোল দেয়া যাবেনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে,পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালকে দিয়ে উন্নয়নের ট্রেন চালু করে দিয়েছে। এলাকার জন্য কিছু করতে চাইলে এই টেনে আসুন। অনেক কিছুর রুপ দেখেছি, ক্ষমা করে দিয়েছি সে নগ্ন রুপকে। কোন প্রকার সাইড লাইন থেকে কাউকে সুযোগ দেয়া হবেনা। তিনি বলেছেন জনগনের জন্য কাজ করুন সবকিছু ঠিক মতো পেয়ে যাবেন। দলের ভিতরে থেকে কেউ কোন প্রকার অন্যায় কাজ করলে আর নোটিশও দেওয়া হবে না। সরাসরি এ্যাকশনে যাবে দল। আর কোন ছাড় নয়। সবাইকে ঐক্যবন্ধ হয়ে একসাথে দলের জন্য কাজ করার আহবান জানান।
দীপন তালুকদার দীপু শনিবার (১২সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কাউখালীতে দেয়া সংবর্ধনা সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখছিলেন।
কাউখালী উপজেলায় নবগঠিত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যবৃন্দকে এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা দিয়েছে। কাউখালী উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।
দীপন তালুকদার দীপু একটি যুগান্তকারী ও আপডেট রূপরেখা ঘোষণা করে বলেন, “বিগত ১৭ বছরের জগদ্দল পাথর সড়ে গেছে। এখন পার্বত্য জেলা পরিষদকে শতভাগ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত করে সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এই পরিষদ কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি পাহাড়ের সর্বস্তরের মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠান। দূনীর্তিমুক্ত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করে দৃস্টান্ত স্থাপন করা হবে।


তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতি সুনিশ্চিত করা আমাদের প্রথম লক্ষ্য। অনগ্রসর উপজেলাগুলোর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং স্থানীয় পর্যটন খাতকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে বিকশিত করতে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেছেন এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার প্রতিটি উপজেলায় কি কি প্রকল্প গ্রহন করা হলে এ এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা যাবে। তিনি বলেন ব্যাংক ঋনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করে বেকার যুবক/যুবতীদের আত্নকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পর্যটনের মাধ্যমে পাচ হাজার জনগনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এ এলাকার ফলমুল সংরক্ষন করার জন্য বৃহৎ দুটি কোল ষ্টোরেজ নির্মান করা হবে। এছাড়াও প্রতিটি বাজারে এক হাজার মেট্রিকটন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন কোল ষ্টোরেজ নির্মান করা হবে। তিনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাঙ্গামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য বৃহৎ আকারে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করেছেন।
তিনি কাউখালীসহ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সার্বিক শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও ত্বরান্বিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এলাকার টেকসই উন্নয়নে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
কাউখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য এ্যাড. মামুনুর রশীদ মামুন। সংবর্ধনায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবগঠিত সদস্য পাইচিং মং মারমাসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষনা পাহাড় থেকে সমতল সবক্ষেত্রে সমান উন্নয়ন হবে। আমাদের সকলকে এই ঘোষনা বাস্তবায়ন করতে হবে। অনেক নেতা আছেন চেয়ারে বসার পর দলের কথা ভুলে যান। আমি মনে করি এই দলের কারনে আজকে এই চেয়ার। কোন নেতাকর্মীর কারনে দলের দূর্নাম হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। তিনি আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সর্ম্পকে বলেছেন যাদের এলাকায় জনগনের সাথে সম্পৃক্ততা আছে তাদেরকেই দল থেকে মনোনয়ন করা হবে। নামকাওয়াস্তে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবেনা। এলাকায় যারা মেম্বার চেয়ারম্যান পদে যারা নির্বাচন করবেন তারা দলের জন্য এবং এলাকার জনগনের জন্য কাজ করুন। দলের বাহিরে গিয়ে কেউ নির্বাচন করতে চাইলে তাকে যতবড় শক্তিশালী হোন না কেন দল থেকে মনোনয়ন পাবে না। তিনি আরো বলেছেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন হয়েছে। নতুন পরিষদের হাত ধরে পাহাড়ে শান্তি ও সুষম উন্নয়নের এক নতুন স্বর্ণযুগ শুরু হবে। কাউখালীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ সার্বিক উন্নয়নে জেলা পরিষদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে কাউখালীতে উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাউখালী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পাইচিং মং মারমা বলেছেন,আজ পয়ত্রিশ বছরের সন্মান পেয়েছি। বিগত সময়ে সাতবার কারা অন্তরীন হয়েছি। নিজের একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছি। আমার নিজের অঙ্গাহানি ঘটেছে। তাকে সদস্য নির্বাচিত করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন আমার এই প্রাপ্তি আমি আমার শহীদ ছেলের জন্য উৎস্বর্গ করে দিলাম। তিনি সকলকে সাথে নিয়ে সুষম বন্টনের মাধ্যমে কাউখালীকে মডেল উপজেলা হিসেবে বাস্তবায়নের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
কাউখালী উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল মোতালেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর তারা মিয়া।
এতে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তারেক হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তামজীদ উদ্দিন, মৎস্যজীবি দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক সেকান্দর হোসেন, জাসাসের সভাপতি কামাল হোসেন,তাতী দলের সভাপতি আলী হায়দার, যুবদল নেতা মোঃ শরীফ, যুবদলের সভাপতি মোমিনুল করিম, বেতবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আলী হোসেন, কলমপতি ইউনিয়ন বিএনরি সভাপতি নাছির উদ্দিন, ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর তারা মিয়া, যুগ্ন সম্পাদক ছগির আহাম্মদ,সহ-সভাপতি সাজাই মং মারমা, অর্জুন মনি চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ছৈয়দুল আলম মেম্বার প্রমুখ।


সংবর্ধনা অনুষ্টানে কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন বক্তারা বলেন, কাউখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় বিএনপির রাজনীতিকে ধবংস করার জন্য কাউখালী উপজেলায় নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। বক্তারা কাউখালীতে নোংরা বাজনীতির গডফাদারকে চিহিৃত করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান। বক্তারা বলেছেন,দলের মধ্যে কিছু দুষ্ট লোকের কারনে কাউখালীর মতো সুন্দর উপজেলাকে কুৎসিত করা যাবে না। দলের নামধারী এসব নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদের হেনস্থা করছে।
কাউখালী উপজেলা বিএনরি সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর তারা মিয়া, বিগত সময়ে ১৯ বছরে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে কাউখালীর নামে যে লুটপাট হয়েছে তার শ্বেতপত্র বের করার দাবী জানান।
রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ছৈয়দুল আলম মেম্বার বলেছেন,আগে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের আসনে বসার পর বিএনপি হতো। আর এখন সত্যিকারের নেতা এই আসনে বসার কারনে আমরা আশা করছি সঠিক উন্নয়ন হবে,নির্যাতিত নিপিড়ীতরা সুযোগ সুবিধা পাবে।
অনুষ্ঠানে কাউখালী উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে নতুন পরিষদকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions