
ডেস্ক রির্পোট:- বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো সংহত করতে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে দেশের পুঁজিবাজারে বৈচিত্র্য আনা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই)।
গতকাল মঙ্গলবার নগরীর আগ্রাবাদ সিএসই কনফারেন্স হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বৈচিত্র্য আনয়ন : কমোডিটি এক্সচেঞ্জের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির সাবেক সভাপতি এবং ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি। তিনি বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জের প্রথম কনসেপ্ট পেপার সিএসইতেই তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ঢাকা ও তৎকালীন মন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব উপস্থাপনের পর ভারতের মুম্বাইয়ে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে এটি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এতে গোল্ড বা তুলার মতো মানদণ্ডভিত্তিক (স্ট্যান্ডার্ড) পণ্যগুলোর কেনাবেচা সম্ভব হলেও চায়ের মতো নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ডহীন পণ্যের কেনাবেচা সম্ভব নয়।
মির্জা সালমান ইস্পাহানি আরো বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোনো জুয়া বা স্পেকুলেশনের জায়গা নয়; বরং এটি কৃষক, উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের জন্য আগাম মূল্যের নিরাপত্তা (সেফগার্ড) এবং ঝুঁকি কমানোর একটি মাধ্যম। পাঁচ-ছয় বছর আগে এর লাইসেন্স পাওয়ার পর ব্রোকারদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা সিএসসির আয়ের একটি নতুন উৎস তৈরি করবে। এতে ১০ শতাংশ মার্জিনে ট্রেড করার সুবিধা থাকলেও এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অতিরিক্ত বিনিয়োগ না করে ক্ষতি সহ্য করার সামর্থ্য অনুযায়ী সতর্কতার সঙ্গে ট্রেড করার আহবান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অধীনে দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক আমূল ও যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দিতে পারে। ভারত (এমসিএক্স), চীন, যুক্তরাষ্ট্র (শিকাগো) ও ইন্দোনেশিয়ার (আইসিডিএক্স) মতো বিশ্ব অর্থনীতিতে কমোডিটি ও ফিউচার এক্সচেঞ্জগুলো বিপুল অবদান রাখছে। শর্ট টার্ম ব্যাংকঋণের তুলনায় ক্যাপিটাল মার্কেট দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও মূলধন সরবরাহের মাধ্যমে শিল্প খাতকে টেকসই সহায়তা প্রদান করে।
ভোগ্য পণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের মতো প্রথাগত বাজারে জাল ডিও বা ফটোকপি কেনাবেচার মাধ্যমে যে প্রতারণা ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হলে সেই সুযোগ ও ঝুঁকি থাকবে না। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কিত সঠিক তথ্য ও জ্ঞান গণমাধ্যমের বরাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।