শিরোনাম
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি, নিচু এলাকা প্লাবিত,ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে,রাতে খুলছে ১৬ জলকপাট রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকে পানি ১০৫.৩৬ ফুট, বিপৎসীমার ৩.৬৪ ফুট নিচে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে কাচালং নদীর পানি বিপদসীমার উপরে: প্লাবিত নিচু এলাকা, কাপ্তাই বাঁধ খোলে দেয়ার দাবী স্থানীয়দের নবগঠিত রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বরণ, বিএনপির উদ্যোগে সংবর্ধনা প্রকল্পের মেয়াদ ১০ বছর ৯ বছরে শুরু হয়নি তিন স্কুলের কাজ, খরচ ৪৪৪ কোটি টাকা বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে সাময়িক স্থগিতাদেশ পাহাড়ে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর তাগিদ পার্বত্যমন্ত্রীর পার্বত্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব হলেন রাশেদুল হক মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভুটান রাজার সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি, নিচু এলাকা প্লাবিত,ঝুলন্ত সেতু পানির নীচে,রাতে খুলছে ১৬ জলকপাট

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ দেখা হয়েছে

রাঙ্গামাটি:– টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তি বাঘাইছড়ি উপজেলায় কাচালং নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর উপচে পড়া পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পানিতে ডুবে গেছে রাঙ্গামাটির সিম্বল ঝুলন্ত সেতু। পর্যটন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অপরদিকে শনিবার রাত দশটায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬ টি গেট ৬ (ছয়) ইঞ্চি পরিমাণ খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে।
জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিচু এলাকাসহ, সদর উপজেলাসহ বেশ কিছু উপজেলার নিচু ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হ্রদের পানি বৃদ্ধির ফলে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে।
বাঘাইছড়ি পৌরসভার বটতলী, এলাকার এফব্লক,পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টার পাড়া, মাদ্রাসা পাড়া, লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বসতবাড়ি ও প্রধান প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন বেশ কিছু পরিবার।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান জানিয়েছেন কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বিকাল সারে চারটায় জানান পানি হু হু করে বাড়ছে। ইতিমধ্যে কিছু পরিবার স্থানীয় বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে বলে জানান তিনি।
কাপ্তাই হ্রদে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় উজান ও ভাটি অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১০টা থেকে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে উঠিয়ে পানি ছাড়া শুরু হবে।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হ্রদে পানির সমতল বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে শনিবার রাত ১০টায় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি পরিমাণ উঠিয়ে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৫.৬৪ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। প্রাথমিক পর্যায়ে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি উঠিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯,০০০ কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২,০০০ কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের (ইনফ্লো) পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করে স্পিলওয়ে খোলার নির্ধারিত সময় কিংবা পানি ছাড়ার পরিমাণ পরিবর্তন বা বৃদ্ধি করা হতে পারে।
কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিতে পানিতে ডুবে গেছে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু। পর্যটন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যেকোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হ্রদের পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটক প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদে থাকার এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions