ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে বিকল্প কম, ইরানের দাবি– আটকে গেছে যুক্তরাষ্ট্র

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- ইসরায়েলের ইন্ধনে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ মাসের যুদ্ধে জড়িয়ে আটকে গেছে এবং সমস্যার মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে ইরান। তারা আরও বলেছে, দেশটিকে অবশ্যই এর মূল্য দিতে হবে। প্রায় একই কথা বলছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণও। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, যুদ্ধ যত গড়াচ্ছে ট্রাম্পের হাতের বিকল্পের পরিধি তত ছোট হয়ে আসছে।

গত রোববার ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, ইরানে বিমান হামলা বন্ধ করা হয়েছে কূটনীতিকে সুযোগ করে দিতে। সিএনএন বলছে, কূটনীতির কিছু প্রমাণ দেখা গেছে। তবে ইরানের মূল দাবি হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসতে দেখা যায়নি।

ঘুরেফিরে ট্রাম্প আবারও আগের অবস্থানেই রয়েছে। তিনি ইরানে হামলা চালিয়ে ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁর সে পরিকল্পনা কাজ করেনি। স্থল অভিযানে সেনা পাঠাতে পারেন তিনি। তবে এতে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আগে থেকেই এই যুদ্ধ অজনপ্রিয়।

ইরান যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে। এটি স্থায়ী হয়েছে পাঁচ মাস। সব মিলিয়ে তাঁর হাতে বিকল্পের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। একে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। তেলের দাম, গ্যাসের দাম, বেশির ভাগ মার্কিনির যুদ্ধবিরোধিতা, লোহিত সাগরের বিকল্প পথ হুমকির মুখে পড়া–সবই ট্রাম্পের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্প এখন ইরানে হামলা চালাতে পারেন, অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারেন। এতে ইরানের শাসক শ্রেণির ওপর চাপ পড়বে না। বরং বেসামরিকরাই চাপের মুখে পড়বেন। আর এটি যুক্তরাষ্ট্রের খরচও বাড়াবে। ফলে এই বিকল্প নিয়ে খোদ ট্রাম্পের আশপাশের ব্যক্তিদেরই আপত্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

আরেকটি পথ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ। বন্দর থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অবরোধ দিয়ে ইরান সরকারকে দেশ ও সামরিক বাহিনী চালানোর মতো অর্থ জোগাড়ে বাধা দেওয়া। এটিও দীর্ঘসময় ধরে চালাতে হবে, মাসের পর মাস ধরে এটি সমস্যা তৈরি করবে। সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ধৈর্য বা দেশীয় রাজনৈতিক সমর্থন–কোনোটাই এ পথে যাওয়ার জন্য অনুকূল অবস্থায় নেই। উল্টো এই পথে হাঁটলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ পড়বে।

তৃতীয় বিকল্প হতে পারে, ইরানের সঙ্গে এর আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ফেরত যাওয়া। এই বিকল্পে তেহরান রাজি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্তত হরমুজ প্রণালি থেকে অর্থ আয় ও এর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অস্পষ্ট রেখে ওই পথে হাঁটবে না তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এতে রাজি হলে, তা হবে দেশটির জন্য পরাজয়। ট্রাম্প দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক সমালোচনার মুখোমুখি হবেন। ফলে এই মুহূর্তে সত্যিকার অর্থে ট্রাম্পের হাতে বিকল্প নেই বললেই চলে।

অস্ত্রের মজুত কমেনি
টানা ১৩ দিন হামলার পর গত তিন দিন ধরে ইরানে হামলা হচ্ছে না। গুঞ্জন রটেছিল, হয়তো অস্ত্রের মজুত কমে আসায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, পেন্টাগনের আকাশ প্রতিরক্ষা প্রতিরোধকের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে বিশ্বের যে কারও চেয়ে অনেক বেশি অস্ত্র রয়েছে এবং আমাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি রয়েছে।’

এদিকে, গতকাল সোমবার প্রথম ভাগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এআই দিয়ে তৈরি একাধিক ছবি শেয়ার করেন। সেগুলোতে দেখা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী এগিয়ে রয়েছে।

ওয়াশিংটনের পথে নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের উদ্দেশে গতকাল রওনা হয়েছেন। সেখানে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে।

ট্রাম্পের আমন্ত্রণেই ওয়াশিংটন সফর করছেন নেতানিয়াহু। তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ নিয়ে আলাপ করবেন। গত রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রয়োগ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে বলেছেন।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় গ্রেপ্তার করা হবে না। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ওই পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions