শিরোনাম
অন্তর্বর্তী সরকারের ষোলো মাস,উপদেষ্টা পরিষদের ৫১ বৈঠক ও ৮১টি অধ্যাদেশ প্রণয়ন জামায়াতের তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন ১০০ প্রার্থী,রাঙ্গামাটিতে সর্বমিত্র চাকমা বা ফরহাদ,খাগড়াছড়িতে সাদিক কায়েম,বান্দরবনে খোঁজা হচ্ছে উপজাতি প্রার্থী যেভাবে ফাঁদে পড়েন প্রভা বিরক্ত রাশমিকা চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে হাইকোর্টের বিভক্ত রায় কুয়ালালামপুরে বন্যা: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৫’শ লন্ডন নেয়া হচ্ছে খালেদা জিয়াকে,কাতার আমীরের এয়ার এম্বুলেন্স সফরসঙ্গী চিকিৎসকসহ ১৭ জন নতুন ৫০০ টাকার নোট বাজারে আসছে আজ অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়া বৈধ: আপিল বিভাগ তিন পার্বত্য জেলার স্কুলে বসছে স্টারলিংক সংযোগ

পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধন: সেনাপ্রধানের ক্ষমতা বাড়ছে, কমছে উচ্চ আদালতের

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১০০ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- পাকিস্তানের নতুন সংবিধান সংশোধনী পাসের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে।

পাকিস্তানের নতুন সংবিধান সংশোধনী পাসের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। সোমবার দেশটির সিনেটে তিন ঘণ্টার মধ্যেই একটি সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। বিলে সেনাপ্রধানকে আরো বেশি ক্ষমতাশালী করার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এ প্রক্রিয়া বর্জন করে সংসদ থেকে বেরিয়ে যায়। তাদের অভিযোগ এটি গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করবে সরকারের হাতে। তুমুল হট্টগোল, স্লোগান, কাগজ ছোড়া ও ওয়াকআউটের মধ্যে পাকিস্তান সিনেটে বিলটি পাস হয়েছে। ৯৬ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষে ৬৪ জন সিনেটর বিতর্কিত ২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিলের পক্ষে ভোট দেন। ফলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিলটি সহজেই গৃহীত হয়।

সংশোধনীর অধীনে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে নতুন পদ ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ বা সিডিএফ হিসেবে নিযুক্ত করা হবে। এতে তিনি তিন বাহিনীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাবেন। এ পদ কার্যকর হলে বিদ্যমান ‘চেয়ারম্যান অব জয়েন্ট চিফস’ পদটি বিলুপ্ত হবে। বিল অনুযায়ী, মেয়াদ শেষে মুনির আজীবন ফিল্ড মার্শাল পদমর্যাদা ধরে রাখতে পারবেন এবং আইনি দায় থেকে মুক্ত থাকবেন।

সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এ পরিবর্তন প্রতিরক্ষা সমন্বয় জোরদার করা এবং ভারতের সঙ্গে মে মাসে সংঘর্ষের পর জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ‘এই সংশোধনীগুলো শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন, কেন্দ্র–প্রদেশ সমন্বয় এবং যুদ্ধোত্তর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে।’

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সামরিক প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে, যেটি একবার কার্যকর হলে পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। অতীতে সেনাবাহিনী রাজনৈতিক ক্ষমতার আড়ালে থেকেই প্রভাব বিস্তার করলেও, এবার তারা সংবিধানিক কাঠামোর ভেতরেই সেই প্রভাব স্থায়ী করার পথে।

আরেকটি বড় পরিবর্তন আসছে বিচারব্যবস্থায়। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক মামলাগুলো আর সুপ্রিম কোর্টে নয়, নতুন করে গঠিত ‘ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টে’ শুনানি হবে। এ আদালতের বিচারপতিদের নিয়োগ দেবে সরকার। ফলে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে সরকারের প্রভাব বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকেও আজীবনের জন্য আইনি দায়মুক্তি দেওয়া হবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) বলেছে, সরকার তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই বিলটি উত্থাপন করেছে। পার্লামেন্টে গোলযোগের পর তারা বিক্ষোভ দেখিয়ে ওয়াকআউট করে। পিটিআইয়ের আন্তর্জাতিক মুখপাত্র জুলফি বুখারি বলেছেন, এই সংশোধনী গণতন্ত্রের চেক অ্যান্ড ব্যালান্স ব্যবস্থাকে ধ্বংস করবে, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করবে, মৌলিক অধিকার সংকুচিত করবে এবং ক্ষমতা একটি গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত করবে।

অন্যদিকে, আইনমন্ত্রী আজম তারার বলেছেন, আসিম মুনির পুরো জাতির নায়ক; সংবিধানে তার পদমর্যাদাকে সুরক্ষা দেওয়াই যথার্থ। সেনাবাহিনী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধের প্রকৃতি বদলে যাওয়ায় একীভূত কমান্ড কাঠামো সময়ের দাবি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই সংশোধনী কেবল সামরিক কাঠামো নয়, গোটা রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে দেশের বিচারব্যবস্থা ও নির্বাহী কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতার সীমারেখা আরো অস্পষ্ট হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন পরিবর্তন পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

পাকিস্তানে বর্তমানে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতৃত্বে জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ (পিএমএল-এন) এবং রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি (পিপিপি)। এ জোট সরকার ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর গঠিত হয়, ইমরান খানের দল পিটিআই বিরোধী অবস্থানে রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions