শিরোনাম
খাগড়াছড়িতে চীনা চক্রের গোপন সার্ভার: টার্গেট ছিল দুই দেশের নেটওয়ার্ক জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ মঞ্চে তারেক রহমান অক্টোবরে ৬৪ জেলায় সারের শতভাগ বরাদ্দ,চাহিদাভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে,ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি ৪ জামায়াতের লং মার্চ অযৌক্তিক হলেও সহযোগিতা করবে সরকার: রাশেদ খান রাঙ্গামাটিতে জমির বিরোধ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত-৩ গুলশানে ঝটিকা মিছিল,‘নামাজের আগে পুলিশ থাকবে না ফাইনাল’ চাঙা হচ্ছে বিএনপি,সরকারের পাশাপাশি দল গোছাতে উদ্যোগ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐক্য বজায় রাখতে পদক্ষেপ নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, জুলাই থেকেই বাড়তি বেতন ফিফার ২১১ সদস্যকে ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার দাবি!

চিকিৎসার অভাবে বাবা হারানো তিন যমজ ভাইয়ের মেডিকেলে চান্স

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৪৩০ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- বগুড়ার ধুনট উপজেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামের তিন যমজ ভাই মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাদের এক ভাই গত বছর এবং অপর দুই ভাই এবার চান্স পেয়েছেন।

তারা ধুনট নবির উদ্দিন পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও পরে বগুড়া সরকারি কলেজ শাহ সুলতান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন।

একটা সময় তাদের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভালো চিকিৎসার অভাবে মারা যান।

তিন যমজ ভাইয়ের মধ্যে মাফিউল হাসান ২০২৩ সালে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে এবং এবার সাফিউল হাসান দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে এবং রাফিউল হাসান নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

তাদের মা আর্জিনা বেগম বলেন, ২০০৯ সালে ওদের বাবা গোলাম মোস্তফা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তখন ওদের বয়স ৫ মাস। বাবার স্নেহ মমতা কিছুই পায়নি ওরা। একপর্যায়ে তিন সন্তানকে পড়ালেখা করানো নিয়ে অনেক বিপাকে পড়ি। নিজে কষ্ট করে জমি বিক্রি করে ওদের পড়ালেখা করিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫ বিঘা জমি ছিল। ওদের বড় করতে বাবার বাড়ির জমিও বিক্রি করে দিয়েছি। বাকি যা আছে তাও প্রয়োজনে বিক্রি করব। তবুও ওদের ডাক্তার বানাব। যাতে আমাদের মতো গরিব মানুষদের সেবা করতে পারে। আমি কত খুশি হয়েছি প্রকাশ করতে পারব না। গ্রামের লোকজন ওদের যখন দেখতে আসে তখন বুক ভরে যায়।

ধুনট নবির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) তিন ভাই একসঙ্গে স্কুলে আসে। শিক্ষকদের কাছ থেকে দোয়া চায়। আমরা তাদের জন্য দোয়া করি। তারা মিষ্টি নিয়ে এসেছিল। ওদের মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া আমাদের স্কুলের গৌরব ও সুনামের।

গেল শিক্ষাবর্ষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া মাফিউল হাসান বলেন, আমরা তিন যমজ ভাই বগুড়ায় মেসে একই সঙ্গে থেকে সরকারি শাহ সুলতান কলেজে পড়েছি। মা, কষ্ট করে এবং জমি বিক্রি করে পড়ালেখা করিয়েছেন। কখনোই আমাদের কষ্ট করতে দেননি। বথুয়াবাড়ি গ্রামের মধ্যে আমরাই প্রথম মেডিকেলে চান্স পেয়েছি। এর আগে আর কেউ সুযোগ পায়নি। খুবই ভালো লাগছে আমরা তিন ভাই ডাক্তার হব।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া শাফিউল বলেন, আজ বাবা থাকলে কত খুশি হতেন। বাবাকে হারিয়েছি শিশুকালে। এখন মা আমাদের বাবার অভাব পূরণ করেছেন। মানুষের সেবা করার জন্য যাতে চিকিৎসক হতে পারি সবার কাছে এ দোয়া চাই।

নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে সুযোগ পাওয়া রাফিউল ইসলাম বলেন, অসুস্থ অবস্থায় বাবা মারা যান। যখন বিষয়টি জানতে পারলাম তখন থেকেই তিন ভাই ডাক্তারি পড়ার প্রতিজ্ঞা করি। গরিব মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা করব। বাবার মতো যেন কাউকে অকালে ঝরে পড়তে না হয়।

সরকারি শাহ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম বলেন, শুনেছি তিন যমজ ভাইয়ের মধ্যে গতবার একজন এবং এবার দুজন মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। ওদের জন্য দোয়া ও শুভকামনা রইল।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions