কতটা এগোল দেশের নারী ক্রিকেট

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ দেখা হয়েছে

ক্রীড়া প্রতিবেদক:- সালমা খাতুনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০১৮ সালে নারী টি-২০ এশিয়া কাপে। নারী ও পুরুষ মিলিয়ে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সাফল্য এটি। চরম নাটকীয়তায় ভরা ফাইনালে শেষ বলে হারিয়েছিল ভারতকে। ওটাই শেষ। নারী ক্রিকেটাররা এরপর আর কখনোই ফাইনাল খেলেনি। এশিয়া কাপের সর্বশেষ তিন আসরের একটি সেমিফাইনাল খেলেনি। সর্বশেষ দুটিতে টপকাতে পারেনি সেমিফাইনালের কঠিন হার্ডল। দুবারই বিদায় নিয়েছে ভারতের কছে হেরে। তারপরও নারী দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক প্যানেলের সদস্য সালমা খাতুন বলছেন- গত আট বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়েছে, ‘আট বছরে অবশ্যই বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়েছে। বিভিন্ন দলের বিপক্ষে জিতছে। সেমিফাইনাল খেলছে। বড় বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করছে’। সাবেক অধিনায়ক বললেন উন্নতি হয়েছে। আদৌ কি সেটা হয়েছে? নারী টি-২০ এশিয়া কাপে সেমিফাইনাল খেলাকে যদি উন্নতির মাপকাঠি ধরা হয়, তাহলে অবশ্যই এগিয়েছে। কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বে নিগারদের অবস্থান কোথায়? যদিও নারী ক্রিকেট দল নিয়মিত টি-২০ বিশ্বকাপ খেলছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপও খেলেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ও পেয়েছে। এত সুযোগসুবিধা পাওয়ার পরও যতটুকু এগোনোর কথা, ততটুকু কি এগিয়েছে? ক্রিকেটাররা বেতন পাচ্ছেন এ, বি, সি ও ডি-চার ক্যাটাগরিতে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

সেমিফাইনালের ব্যারিয়ার টপকাতে না পারার পরও সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে কোচ রেশমা আক্তার আদুরী কিন্তু বলছেন না এগোনোর কথা, ‘জাতীয় দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার ৮-১০ বছর ধরে খেলছেন। তাদের যতটুকু এগোনোর কথা, ঠিক ততটা এগোয়নি। এজন্য আমি ক্রিকেটারদের দোষারোপ করব না। কেননা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও জাতীয় ক্রিকেট নিয়মিত হচ্ছে না। সেজন্য ক্রিকেটাররা নিজেদের সামর্থ্যে উন্নতি করতে পারছে না। এ ছাড়া পাইপলাইনেও ক্রিকেটারের অভাব। সেজন্যই ক্রিকেটাররা বেশিদিন ধরে জাতীয় দলে খেলছেন।’ উন্নতি না করার কারণই শুধু ব্যাখ্যা করেননি। জাতীয় দলে নেতৃত্বের পরিবর্তন চেয়েছেন, ‘নিগার সুলতানা জাতীয় অন্যতম সেরা ব্যাটার। যদিও এখন ছন্দে নেই। আমি চাই চাপমুক্ত ক্রিকেট খেলার জন্য নিগারের কাছ থেকে দলের নেতৃত্ব অন্য কাউকে দেওয়া হোক। সে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ক্রিকেটারদের অনেকেরই অভিযোগ দলে তিনি স্বেচ্ছাচারী।’ যদিও পরিসংখ্যানে দেশের সেরা অধিনায়ক নিগার। ২০২২-২০২৬ সালের এশিয়া কাপ পর্যন্ত নিগারের নেতৃত্বে ৭৮ ম্যাচে বাংলাদেশের ৩১ এবং হার ৪৬। অবশ্য আসন্ন এশিয়া গেমসে নিগারই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন। অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ৩টি ওয়ানডে খেলবে ব্রিসবেনে।

নারী এশিয়া কাপের চলতি আসরের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন অধিনায়ক নিগার। কিন্তু সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে কোনো রকমের লড়াই করতে পারেনি। সেমিফাইনালের হার্ডল পেরোনোর ম্যাচ ৪০ রানে হেরে যায় ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে। আসরে বাংলাদেশ হারিয়েছে দুই আইসিসি সহযোগী দেশ ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে ও আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে। ক্যাচ মিস করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতা ম্যাচ হেরে গেছে ৫ উইকেটে। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেটে ১২৯, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮ উইকেটে ১১৪ ও আমিরাত ম্যাচে নিগার বাহিনীর সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১০৩ এবং সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ১০৯ রান। গোটা আসরে কোনো হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস নেই। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪০ রান সোবহানা মুস্তারির। ৪ ম্যাচের মোট রান ৯৫। অধিনায়ক নিগারের মোট রান ৪ ম্যাচে ৫৬, ওপেনার দিলারা আক্তার ৪ ম্যাচে ৭৪, স্বর্ণা আক্তার ৪ ম্যাচে ৬২ রান করেন। স্বর্ণার ব্যাটিং ছিল একমাত্র আক্রমণাত্মক। তার স্ট্রাইকরেট ১২১.৫৬। শারমিন আক্তার সুপ্তার স্ট্রাইকরেট ১১৮.১৮। ১০০ স্ট্রাইকরেট ফাহিমা খাতুন ও মারুফা আক্তারের। ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ৪ ম্যাচে ৫২ রান করেন ৯৪.৫৪ স্ট্রাইকরেটে। গোটা আসরে নিগার বাহিনী ছক্কা মেরেছে ৪টি। অবিশ্বাস্য! চার মেরেছে ৪৫টি। ব্যাটাররা ড্রাইভ খেলার চেয়ে সুইপ খেলাকে প্রাধ্যান্য দিয়েছেন। ব্যাটিংয়ের ধরন দেখে মনে হয়েছে, বলের মেরিটই বুঝতে পারছেন না। অথচ নির্বাচক সালমা স্বীকার করেননি ক্রিকেটারদের ড্রাইভ খেলার দুর্বলতার কথা, ‘ক্রিকেটাররা ড্রাইভ খেলতে পারেন না, এটা ঠিক নয়। কাভারের ওপর দিয়ে তুলে মেরেছেন। সুইপ বেশি খেলেন, এটাও ঠিক নয়। আমার মনে হয়, কোচ ভালো বলতে পারবেন।’ ব্যাটাররা ধারাবাহিক ছিলেন না। কিন্তু বোলাররা বরাবরের মতোই ভালো করেছেন। সুইং বোলার মারুফা ৪ ম্যাচে ৫.০৬ ওভারপ্রতি স্ট্রাইকরেটে ৮ উইকেট এবং বাঁ হাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার ৪ ম্যাচে ওভারপ্রতি ৫.৩১ স্ট্রাইকরেটে ৬ উইকেট নেন। এ ছাড়া ৪টি করে উইকেট নেন রাবেয়া খান ও সুলতানা খাতুন।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions