শিরোনাম
বান্দরবানের থানচিতে প্লাস্টিক বর্জন করে দেশীয় কুটির শিল্প রক্ষার আহ্বান পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন ওয়াদুদ ভূইয়া ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা, লাইভে এসে যা বললেন আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয় শেখ রেহানা- দ্য ওয়ালকে শেখ হাসিনা আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে, সাত মাসে আহত ৩৬১ বিরোধী দলের উসকানিতে পা দেবে না বিএনপি,মোকাবিলা করবে কৌশলে ধর্মীয় ইস্যুতে সরব, রাজনীতিতে সতর্ক থমকে নতুন ইসলামি জোট,হেফাজতে ইসলাম কোন পথে খারকিভে ১৭০০ ইউক্রেনীয় সেনাকে চতুর্দিকে ঘিরে ফেলেছে রুশ বাহিনী! ছড়িয়ে পড়া ‘বিয়ের তারিখ’ নিয়ে মুখ খুললেন পূজা চেরী

আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয় শেখ রেহানা- দ্য ওয়ালকে শেখ হাসিনা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ভারতের দ্য ওয়ালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’ ছোট বোন শেখ রেহানা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।’ ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন— ভেবেছিলেন হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে বর্ডার ক্রস করার পর তিনি জানতে পারেন তাকে ভারতে নেয়া হচ্ছে। দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে তার দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ফিরলে এয়ারপোর্টেই তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।’ নিজের অনুপস্থিতিতে ফুফাতো ভাইকে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত জানানোয় শেখ হাসিনার সমালোচনাও করছেন দলের অনেকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে অনেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। শেখ সেলিমের বিশ্বস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় তার সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির তথ্যও সামনে আনছেন সমালোচকেরা।

ভারতকেও খেসারত দিতে হবে: শেখ হাসিনার অভিযোগ— দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।’ তার বক্তব্য, প্রতিবেশী বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই দুই দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করলো, তারেককে ফিরিয়ে আনলো- সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।’

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারতের অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনার এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তিনি এও বুঝিয়েছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। তার কথায়, কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করেন। বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন। আমি তো বাধা দিইনি। আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ? তিনি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দরকষাকষি আসলে নিজের দেশকেই খাটো করা।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বে কে?
‘আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে’: বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। দেশের পরিস্থিতি তাকে ব্যক্তিগতভাবে কতোটা ব্যথিত করছে, তা বোঝাতে তিনি বলেন, আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেই আশঙ্কাও বারবার উঠে এসেছে তার বক্তব্যে।

দেশটা আমার: সরকার যদি আপনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দেয় দেয় তাহলে আপনার কীভাবে দেশে ফেরা সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন— দেশটা আমার। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছে। আমরা এই দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছি। আর রাজনীতি তো স্কুল জীবন থেকেই শুরু করেছি। সেখানে আমার দেশে কেন আমাকে ফিরতে দেবে না, সেটাই আমার প্রশ্ন। বিএনপি গভর্নমেন্ট কি বলছে? তারা ভারত সরকারের কাছে চাচ্ছে আমাকে ফেরত দেয়ার জন্য। যখন ফেরত দেয়ার কথা বলছে তখন ফেরত কেন, আমি নিজেই যাবো। সেজন্যই বলেছি আমি চলে যাবো। এখন আবার বাধা দেবে কেন আর পারমিশনই বা লাগবে কেন? দেশে ফেরার অনুমতি না দিলে কি করবেন, অন্যকোনোভাবে কি প্রবেশ করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন— সেটা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা তাতে অনুকূল অবস্থা হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। এটা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন। বলেন, এটা ছিল মেটিকুলাস ডিজাইন।

আমি দেশের মানুষের কাছে যাবো: শেখ হাসিনা বলেন— আমি দেশের মানুষের কাছে যাবো। কারণ, মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে। তাদের পাশে আমাকে দাঁড়াতে হবে। তাতে যদি আমার জীবনও যায় যাবে। কিন্তু আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।

ভেবেছিলাম টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে: ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যান শেখ হাসিনা। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন— আমি যে এসেছি দেশ ছেড়ে, আমি তো দেশ ছেড়ে আসতে কখনো চাইনি। আমি জানতামও না। একটা পরিস্থিতিতে আমি চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। সেটাও আমি জেনেছি অনেক পরে। যখন হেলিকপ্টারে বর্ডার ক্রস করি তখন আমাকে বলা হলো যে আমরা এখানে (ভারত) আসছি। তার আগে পর্যন্ত আমি জানতাম আমি আমার গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। আমি তো মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাদের লাশ ফেলার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে কেন! এ অবস্থায় আমি বললাম আমার থাকার দরকার নেই। আমি চলে যাবো। আমি যাবো কোথায়? আমি বললাম যে, আমি যাবো টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে। যখন আমি এয়ারক্রাফটে তখন আমি জানলাম আমি ভারত চলে এসেছি।

তিনি বলেন, আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লাখ মামলা দেয়া হয়েছে। যত জঙ্গি, সন্ত্রাসী ছিল তাদেরকে তারা ছেড়ে দিয়েছে। আমার সময়ে তো একটামাত্র (সন্ত্রাসী) ঘটনা ঘটেছিল। ৪৬০টি থানা লুট হলো। পোড়ালো। পা বেঁধে বেঁধে ফ্লাইওভারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখলো। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ সহ বিভিন্ন সংগঠন ও পুলিশের সঙ্গে বীভৎস ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।
তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলছি: ডিসেম্বরের আগেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দেশে ফিরবেন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসটা আমি বেছে নিয়েছি, আসলে এটা আমাদের বিজয়ের মাস। তাছাড়া এখন আমি আমার তৃণমূলের মানুষদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদেরকে কোপায়, মারে, অত্যাচার করে, নির্যাতন করে। এগুলো চলছে। তারপরও এই অবস্থায় মানুষ আমাদের সঙ্গে কথা বলে। আগে না, ডিসেম্বর মাসেই যাবো আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেভাবেই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions