
ডেস্ক রির্পোট:- গুমোট সময় পেরিয়ে অনেকটাই স্বস্তিতে দেশের আলোচিত অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সরকারপ্রধানের সঙ্গে হেফাজত আমিরের ‘সুসম্পর্ক’ কওমি অঙ্গনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে রাজনীতির মাঠে এখনো পা মেপেই চলছেন সংগঠনটির শীর্ষ আলেমরা। বিএনপির সঙ্গে ‘বোঝাপড়া’ থাকলেও ধর্ম ও আকিদার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান ধরে রাখতে চায় হেফাজত। অন্যদিকে কওমি মতাদর্শের সাত দলকে নিয়ে বৃহত্তর ইসলামি জোট গঠনের উদ্যোগ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও মতানৈক্যে থমকে গেছে। হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, ইসলাম ও নবী প্রশ্নে হেফাজত কারও সঙ্গে আপস করবে না। ইসলামের ওপর আঘাত এলে সংগঠনটি মাঠে নামবে। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত আমিরের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে সরকার ইসলামবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে তারা আশাবাদী। হেফাজতের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘ইসলাম ও আকিদার প্রশ্নে হেফাজতে ইসলাম সব সময় অনড় থাকবে। সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা চলছে।’
গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। পরে শীর্ষ কওমি আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ বৈঠকের পর সংগঠনের ভিতরে স্বস্তি ফিরে আসে। বিগত সময়ের আইনি ও প্রশাসনিক চাপের স্থবিরতা কাটিয়ে সাংগঠনিক তৎপরতাও বাড়ছে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর হেফাজতের কৌশলে এসেছে সতর্কতা। বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দাবি আদায়কেই গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। সরাসরি কোনো রাজনৈতিক জোটে না গিয়ে বিএনপির সঙ্গে ইস্যুভিত্তিক ও শর্তসাপেক্ষ ‘বোঝাপড়া’ রাখার অবস্থানও স্পষ্ট করছে সংগঠনটি।
জোটের উদ্যোগে বাধা নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব : বৃহত্তর ইসলামি জোট গঠনে হেফাজত আমিরের উদ্যোগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়। ৬ আগস্ট দলগুলো প্রস্তাবিত প্ল্যাটফর্মের গঠনতন্ত্র নিয়ে লিখিত মতামত দেয়। এরপরই জোটের নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণী কাঠামো নিয়ে মতবিরোধ সামনে আসে। একক নেতৃত্বে নিজেদের রাজনৈতিক স্বকীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে শরিকদের একটি অংশের। জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতাকে জোটে নেওয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে। ফলে নেতৃত্বের জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ মতানৈক্যে জোটের উদ্যোগ আপাতত স্থবির। তবে জোট প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী। তিনি বলেন, ‘নতুন জোট গঠন নিয়ে আমাদের কয়েকজন সদস্য কাজ করছেন। তবে গণমাধ্যমে বলার মতো কোনো অগ্রগতি এখনো হয়নি।’