
ডেস্ক রির্পোট:- নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতির ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে এখনো ২২ শতাংশের বেশি মানুষ লিখতে ও পড়তে পারে না। অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে ২০১৪ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের শেষভাগে এসে সরকারি হিসাবে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। আবার দেড় দশকে সাক্ষরতার হার বাড়লেও শিক্ষার মান ও মৌলিক দক্ষতা অর্জন নিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন। আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার নতুন লক্ষ্য সামনে এনেছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক নিরক্ষরদের শিক্ষার আওতায় আনতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে আগের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার পর নতুন লক্ষ্যমাত্রা কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ১৯৬৭ সাল থেকে প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বব্যাপী নিরক্ষরতা দূর করা এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়নে সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতেই ইউনেস্কো এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক দশকে দেশে সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০০১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ দশমিক ৫৫ শতাংশে। ২০১১ সালে হয় ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ৫৬ এবং নারীর ৭২ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৫ অনুযায়ী বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ১৯৯১ থেকে ২০২৫-২৬ সময়ে সাক্ষরতার হার বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি। কিন্তু শতভাগ সাক্ষরতার লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়নি। বরং ২০১৪ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়ার যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা নির্ধারিত সময়ের এক যুগ পরও বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অন্যতম শর্ত ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ গতকাল সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, ৬৪ জেলার নির্বাচিত ৬৪ উপজেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি ১৯ হাজার ২০০ বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোরকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মৌলিক শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ‘প্রত্যেকে একজনকে শেখাবে’ মডেলে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারিক সাক্ষরতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।