শিরোনাম
বাংলাদেশ কি ঋণের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব,বাজেট ২০২৬-২৭ শেষ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ! সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে দুই পক্ষ হতাশায় পদপ্রত্যাশীরা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা ঠিক রাখতে খননের পরিকল্পনা করছে সরকার রাঙ্গামাটির লংগদুতে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট আউটলেটের স্বত্বাধিকারী উধাও পার্বত্য চট্টগ্রামকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিতে ডিসিদের ভূমিকা রাখতে হবে : পার্বত্যমন্ত্রী রাঙ্গামাটির কাউখালীর নারী ক্রিকেটে দাপুটে পারফরম্যান্সে, শিরোপা জয় স্বাক্ষর আমার নয়, কমিটি ভুয়া রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি নিয়ে হাজী মুজিবুর রহমান রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে পাচারকালে বিরল ‘মালায়ন নাইট হিরোন’ উদ্ধার

হতাশায় পদপ্রত্যাশীরা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৩৫ দেখা হয়েছে

► বিএনপির সব অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন মেয়াদোত্তীর্ণ ► তিন বছর পাঁচ বছর কোথাও এক যুগে একই কমিটি

ডেস্ক রির্পোট:- ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী প্রায় সব সংগঠন বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়ায় মূল দলসহ ১১টি অঙ্গসহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। কোথাও তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও এক যুগ একই কমিটি বহাল রয়েছে। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। মন্ত্রিসভাসহ সংসদে যুক্ত রয়েছেন দলের মূল ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাদের সময় কমে গেছে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীদের মধ্যেও বাড়ছে হতাশা।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। এরপর আর কাউন্সিল না হলেও প্রতিনিয়ত দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে আনা হয়েছে পরিবর্তন-পরিবর্ধন। নেওয়া হয়েছে নতুন মুখ। দলের দায়িত্বশীলরা বলছেন, আপাতত সরকারের কার্যক্রম পরিচালনাই শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে বেশ কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১৯ জন। কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। সে কারণে তার পদটিও শূন্য। বর্তমানে কমিটির সদস্য রয়েছেন তারেক রহমান (চেয়ারম্যান), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বেগম খালেদা জিয়া, মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলামসহ স্থায়ী কমিটির আরও কয়েক সদস্য গত কয়েক বছরে মারা গেছেন। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল- এই ৯টি হলো বিএনপির অঙ্গসংগঠন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও শ্রমিক দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন। তবে এসব সংগঠনের অধিকাংশেরই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র নেই।

২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের আগে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেননি তারা। এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, তাঁতীদল, জাসাস, শ্রমিক দল ও মৎস্যজীবী দল এসব সংগঠনেরও কোনো কমিটির মেয়াদ নেই। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান দুজনই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজীব বর্তমানে সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক দলের কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। সভাপতি তুহিন পরাজিত হলেও বাবুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্য। ২০২৪ সালের মার্চে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দিন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। সাম্প্রতিককালে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে ছাত্রদলের পরাজয়ে সংগঠনটির অতীত ঐতিহ্য ধূলিসাৎ করেছে বলে দলটির সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের মন্তব্য। ফলে সংগঠনটির পুনর্গঠন ও নতুন গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের দাবি উঠেছে খোদ সংগঠনটির মধ্য থেকেই।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ১০ বছর একই কমিটি দিয়ে চলছে। এর মধ্যে সুলতানাকে চলতি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ও সাদেক খান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এক যুগের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়েও নতুন কমিটি না হওয়ায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

২০১৪ সালের এপ্রিলে সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে আনোয়ার হোসাইন ও নূরুল ইসলাম খান নাসিমের নেতৃত্বে শ্রমিক দলের কমিটি গঠিত হয়। ২০১৬ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে আর কোনো কাউন্সিল হয়নি। বর্তমানে শীর্ষ দুই নেতাই অসুস্থ।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা আবদুর রহিমকে সদস্য সচিব করে মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে মারা যান রফিকুল ইসলাম। পরে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি। এরপর আর কোনো কমিটি হয়নি।

জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের ২০১৯ সালে গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিও তামাদি হয়েছে প্রায় চার বছর আগে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছরের মেয়াদ থাকলেও ২০২২ সালে এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক ও মো. মজিবুর রহমানকে সদস্য সচিব করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়, যা তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত না হওয়ায় পুরোনো নেতারাই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিনেতা হেলাল খানকে আহ্বায়ক ও জাকির হোসেন রোকনকে সদস্য সচিব করে ২০২১ সালের নভেম্বরে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট সামাজিক-সাংস্কৃতিক (জাসাস) সংস্থার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি প্রায় ৫ বছর পার করছে।

এদিকে, নির্বাচনের পর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদে যেতে আগ্রহীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। পদপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে লবিং শুরু করেছেন। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে। নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলও বাড়ছে।

সামগ্রিক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার গঠনের পর ব্যস্ততা বেড়েছে।

এর মধ্যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করা যাচ্ছে, ঈদুল আজহার পর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো নতুনভাবে গতি পাবে।বাংলাদেশ প্রতিদিন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions