শিরোনাম
চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ আতঙ্কে সুন্দরবনে যেতে চাচ্ছেন না জেলেরা, কমেছে পর্যটকও এত শিশু গেল কোথায়! পুলিশকে মেরে সুড়ঙ্গ দিয়ে পালাল শীর্ষ সন্ত্রাসী বগা বান্দরবানে পাহাড়ি নারীদের স্বপ্নপূরণের সহযোগী বসুন্ধরা গ্রুপ প্রবল স্রোত, অন্ধকার আর কাদা—টানেলে ৯ দিন কীভাবে বেঁচে ছিলেন দুই নেপালি? নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৩৪২, নিখোঁজ ৪৯০০ সাভারে ঘরে মিলল স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ পাহাড়ের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘রাঙ্গামাটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবল টুর্নামেন্ট রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে দৃশ্যমান ঝুলন্ত সেতু

আতঙ্কে সুন্দরবনে যেতে চাচ্ছেন না জেলেরা, কমেছে পর্যটকও

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। মাছ-কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করা উপকূলের মানুষের জন্য দিনটি স্বস্তির হওয়ার কথা থাকলেও প্রথম দিন থেকেই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। টানা বৃষ্টি, নদীতে মরা জোয়ার, মাছ পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকা এবং সুন্দরবনে দস্যুদের আতঙ্কে জেলেদের অনেকেই বনে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি।

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময়ও অনেকেই বন বিভাগের অগোচরে সেখানে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ ধরেছেন। এতে মাছ ও কাঁকড়ার পরিমাণ কমে গেছে বলে তাদের আশঙ্কা। এর সঙ্গে দস্যুদের চাঁদাবাজিও রয়েছে।

জেলেদের মধ্যে অনীহা দেখা গেলেও তিন মাস পর সুন্দরবন খুলে দেওয়ার প্রথম দিন পর্যটকদের নিয়ে নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের উপস্থিতিও ছিল কম।

মঙ্গলবার ও বুধবার সকালে পশুর নদীর ঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাটে জেলে নৌকার তেমন ভিড় নেই। জেলেদের সুন্দরবনের ভেতরে যাওয়ার ইচ্ছাও নেই।

জেলে রশিদ হাওলাদার বলেন, ‘সুন্দরবনে এখন ডাকাতের ভয় আছে। তাই বনের ভেতরে যাবো না। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বনের বেশি গভীরে যাবো না।’

পশুর নদীর পাড়ে চিলা এলাকায় নিজের নৌকার পাটাতন মেরামত করছিলেন জেলে মালেক গাজী। তিন মাস সুন্দরবনে যেতে না পারায় সংসারে টানাটানির মধ্যে ছিলেন তিনি। মালেক বলেন, ‘সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরেই সংসার চলে। তিন মাস বনে ঢুকতে না পারায় খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। এখন মাছ ধরতে না পারলে সংসার চলবে না।’ বুধবার দুপুরের জোয়ারে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

পাশের নৌকায় মালামাল তুলছিলেন জেলে আলামিন খান। তিনি বলেন, ‘একটি নৌকায় সাধারণত দুই থেকে তিন জন জেলে থাকেন। ছয় দিন বনে থেকে মাছ ও কাঁকড়া ধরে তারা ফিরে আসেন। বছরের প্রায় নয় মাস এভাবেই সুন্দরবন থেকে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে তাদের সংসার চলে।’

তবে এবার তাদের আয় নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আলামিন আরও বলেন, ‘ডাকাত দলের সঙ্গে দেখা হলে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এবার বন্ধের সময় অনেকে বিষ দিয়ে সব শেষ করেছে। তাই এবার আয় কেমন হবে, বলা যাচ্ছে না।’

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাস জানান, তাদের রেঞ্জের আওতায় চাঁদপাই, ঢাংমারী, ধানসাগর ও জিউধারা স্টেশন রয়েছে। এই চারটি স্টেশনে এক হাজার ৯৫৩টি নৌযানের বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) রয়েছে। তবে গত দুই দিনে এক হাজার অনুমতিপত্র নিয়েছেন জেলেরা। বৃষ্টি ও নদীতে মরা জোয়ার থাকায় মাছও কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে জেলেরা মাছ ধরার জন্য অনুমতিপত্র নেয়নি। তবে দুর্যোগ কেটে গেলে জেলের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, বৃষ্টির কারণে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করতে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক পর্যটক আসেনি। করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, তিন মাস বন্ধ থাকার পর ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবন ভ্রমণে ইকোট্যুরিজমের জন্য পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক আসেনি। সুন্দরবন খুলে দেওয়ার প্রথম দুই দিনে এখন পর্যন্ত সাতটি পর্যটকবাহী লঞ্চে মোট সাড়ে পাঁচশ দর্শনার্থী এসেছেন। তবে আবহাওয়া কিছুটা ভালো হলে সুন্দরবনে আশানুরূপ পর্যটকের দেখা মিলবে বলেও জানান তিনি।

পর্যটক এবং জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়ে বন কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, ‘সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময়ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ দল কাজ করেছে। এখনও যৌথ টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।’

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর মাছের প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ বন্ধ থাকে। এ বছরও একই কারণে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত। এসব এলাকায় সাধারণভাবে মাছ ধরা বা প্রবেশের সুযোগ নেই। ফলে অনুমতি নিয়ে বনে গেলেও পর্যটক ও জেলেদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সুন্দরবনের ক্যাম্প ও স্টেশনগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক, জেলে ও বননির্ভর মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হয়, এমন কোনও কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।’ বাংলা ট্রিবিউন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions