
রাঙ্গামাটি: সভা-সমাবেশ, মিটিং-মিছিলসহ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন সবার গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এই অধিকার প্রয়োগের নামে কেউ জনগণের জানমালের ক্ষতি, চলাচলে বাধা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
বুধবার রাতে রাঙ্গামাটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, মাদক, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিয়ে আয়োজিত বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে রোড মার্চের ঘোষণা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রচলিত আইন মেনে যে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন সভা-সমাবেশ, মিটিং-মিছিল ও রোড মার্চ করতে পারে। এসব কর্মসূচি পালনের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। তবে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি, যানবাহন চলাচলে বাধা, সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষতি কিংবা কোনো ধরনের সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে সরকার কাউকে বাধা দিতে চায় না। কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকারের আড়ালে কেউ যদি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার বসে থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপমন্ত্রী। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে মাদক, দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।
বিশেষ সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি পাহাড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় রাঙ্গামাটি- আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপেন তালুকদার দিপুসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে উপমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি এখানকার মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি ও সুশাসন নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এজন্য প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।