মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির পর ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:- ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন তাদের ইতিহাসের কঠোরতম আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর যেকোনও নতুন মার্কিন হুমকির ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

বর্তমান পরিস্থিতিই যুদ্ধ শেষ করার উপযুক্ত সুযোগ: পেজেশকিয়ানবর্তমান পরিস্থিতিই যুদ্ধ শেষ করার উপযুক্ত সুযোগ: পেজেশকিয়ান
মার্কিন ট্রেজারি প্রধান স্কট বেসেন্ট জানান, আগামী সোমবার তিনি প্রস্তাবিত এই নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তুলে ধরবেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোনও ধরনের ‘সহযোগিতা’ দেওয়া দেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি ইরানি গণমাধ্যমকে বলেন, স্থল, আকাশ, নৌ, বিমান প্রতিরক্ষা এবং সাইবার স্পেসে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুর নতুন হুমকির এক চূর্ণ-বিচূর্ণ, শাস্তিমূলক ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতা আলোচনার প্রধান প্রতিনিধি ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেন, সরাসরি সামরিক সংঘাত তৈরি করতে না পেরে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে।

দিল্লিতে পাকিস্তানি মিশনের ব্যারিকেড উচ্ছেদ নিয়ে যা বললো ভারতদিল্লিতে পাকিস্তানি মিশনের ব্যারিকেড উচ্ছেদ নিয়ে যা বললো ভারত
ইরানি ও ইরাকি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের যত সামরিক ক্ষমতাই থাক না কেন, মানুষ যদি ক্ষুধার্ত থাকে এবং আমাদের আর্থিক লেনদেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় উৎপাদন না থাকে, তবে আমরা টিকে থাকতে পারব না।

ট্রেজারি প্রধান বেসেন্ট জানান, নৌ-অবরোধ ও এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা হবে ইরানের ওপর একটি ‘জোড়া আঘাত’। সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপের অর্থ হলো বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়া।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ১৪ বছর আগে বলা হয়েছিল ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হয়েছে। ৮ বছর আগে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ ব্যর্থ হয়েছে। ৫ মাস আগে ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ ব্যর্থ হয়েছে। আজ বলা হচ্ছে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’, এটিও ব্যর্থ হতে বাধ্য।

যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেওয়া চীনের এআই ‘মাস্টারমাইন্ড’ কারাযুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেওয়া চীনের এআই ‘মাস্টারমাইন্ড’ কারা
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাঝে থাকা ইরানি জনগণ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর এই যুদ্ধ বন্ধের অভ্যন্তরীণ চাপ রয়েছে, কারণ জ্বালানির উচ্চ মূল্য তার জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন নৌ-অবরোধের পর থেকেই চীনে ইরানি অপরিশোধিত তেল বিক্রি কমতে শুরু করেছে।

কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, চীন ইরানের মোট তেল রফতানির ৮০ শতাংশের বেশি কিনে থাকে। বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সৃষ্টি করে সমস্যার সমাধান করা যাবে না উল্লেখ করে কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে।সূত্র: রয়টার্স

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions