
ডেস্ক রির্পোট:- ভারতীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট ভারত সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে দুই দেশের কোনো সরকারের তরফ থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয়নি। অন্যদিকে তারেক রহমানের সফর নিয়ে শুক্রবার ভারতের বিবৃতি ঘিরে নয়াদিল্লিতে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবরে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে ঢাকা আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাবেক শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়াকে তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে যুক্ত করছে বাংলাদেশ।ইতিহাসের বই ও প্রামাণ্যচিত্র অন্বেষণ করা
সফরের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে তীব্র আলোচনার মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ (ব্যাটল অব নার্ভস) চলছে এবং একটি ‘মধ্যপন্থা’ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়েও ভারতকে বাংলাদেশের উদ্বেগের সমাধান করতে হবে বলে আশা করছে ঢাকা। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। শুষ্ক মৌসুমে পানির বণ্টন নির্ধারণকারী এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা। ‘রাষ্ট্রপতি ভবন অ্যানাউন্সেস, রিট্রাক্টস বাংলাদেশ পিএম তারেক রহমান ভিজিট স্টেটমেন্ট’ শীর্ষক খবরে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রাষ্ট্রপতি ভবন প্রথমে জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণ মহড়া’র কারণে শনিবারের ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ বা প্রহরী বদলের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু এর প্রায় এক ঘণ্টা পরই সেই বিবৃতি প্রত্যাহার করে নেয় রাষ্ট্রপতি ভবন। রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফরের ঘোষণা সাধারণত সংশ্লিষ্ট সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করে থাকে। কিন্তু এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, তারেক রহমানের সফর নিয়ে ‘এই মুহূর্তে বলার মতো কিছু নেই’। ঢাকাও সফর শুরুর কোনো তারিখ নিশ্চিত করেনি। রাষ্ট্রপতি ভবনের ঘোষণা এবং পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।দৈনিক খবরের ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন নেওয়া
নয়াদিল্লি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং উপযুক্ত তারিখ নির্ধারণে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। খবরে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দুই দেশের সম্পর্ক মারাত্মকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনা পরে ভারতে আশ্রয় নেন।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে অডিও লিংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য ঢাকার ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়। ওই দিনটি ছিল তার ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর পূর্তি। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। দেশে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজাও হয়েছে। এরই মধ্যে ৫ আগস্টের ওই বক্তব্য তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনার ওপরও ছায়া ফেলেছে।
ওদিকে রাষ্ট্রপতি ভবনের বিবৃতি এবং তা প্রত্যাহার এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের পর জল্পনা শুরু হয়, সফরটি কি কোনো পক্ষ বাতিল করে দিয়েছে? তারেক রহমানের সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এ মুহূর্তে আমার বলার মতো কিছু নেই। কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আমি আপনাদের জানাব।” বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।” তিনি জানান, শেখ হাসিনা এবং ‘অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে’ প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরও লিখেছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট জবাব চায় বাংলাদেশ। দিল্লি এখনো এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি। ফলে সফরের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে তীব্র আলোচনার মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে এবং একটি ‘মধ্যপন্থা’ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
সূত্রগুলো বলেছে, “আমরা একটি মাত্র ইস্যুর কারণে সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাই না। তাই আমরা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছি। কারণ আমাদের আলোচনার জন্য বিস্তৃত পরিসরের বিষয় রয়েছে যোগাযোগব্যবস্থা থেকে জ্বালানি, পানি বণ্টন থেকে অবকাঠামো, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থেকে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সবকিছুই এর মধ্যে রয়েছে। আমরা শিগগিরই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদী।”
‘রাষ্ট্রপতি ভবন হিন্টস অ্যাট বাংলাদেশ পিএম তারেক রহমান’স ভিজিট, রিট্রাক্টস’ শীর্ষক রিপোর্টে টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে শুক্রবার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারেক রহমানের ভারত সফরের খবরও নাকচ করেছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে অবশ্য ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।ইতিহাসের বই ও প্রামাণ্যচিত্র অন্বেষণ করা
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গণে নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ বা প্রহরী বদলের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। কারণ, সেখানে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা’ অনুষ্ঠানের পূর্ণ মহড়া হবে। পরে ওই বিবৃতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এ নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানায়, এ বিষয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। খবরে বলা হয়, ভারতের জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-এর নেতা সঞ্জয় ঝা সম্প্রতি বলেছিলেন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিটি বিহারের স্বার্থের অনুকূল নয়।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিটি ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নদীসংক্রান্ত সব বিষয় যৌথ নদী কমিশনের অধীনে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় যৌথ কমিটির বৈঠকও কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।”
‘বাংলাদেশ পিএম রহমান লাইকলি টু ভিজিট ইন্ডিয়া ফ্রম আগস্ট ২৩-২৫, ইন্ডিয়ান নিউজপেপার রিপোর্টস’ শীর্ষক রিপোর্টে বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট ভারত সফরে যেতে পারেন বলে শুক্রবার ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তার প্রথম ভারত সফর।
২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যেই এই সফরের সম্ভাবনার কথা জানা গেছে। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ইতিমধ্যে নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
ছয় মাস আগে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে। তবে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ইঙ্গিত দিয়েছে, তারেক রহমানের সফরের জন্য আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সমালোচনার মুখে কয়েক দিন আগে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল যোগাযোগে বক্তব্য দেওয়ার পর ঢাকা এমন অবস্থান জানায়।