শিরোনাম
চট্টগ্রামে পাঁচজনসহ দেশে হাম উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হাসপাতালে দৌরাত্ম্য ওষুধ কোম্পানির দেশে আবারও সক্রিয় হচ্ছে জঙ্গি নেটওয়ার্ক? ​হোটেল লবিতে বন্দুকধারীর গুলি, বিকট শব্দ, নৈশভোজ থেকে সরিয়ে নেয়া হলো ট্রাম্পকে চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলায় ‘বাঘা’ শরীফ তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক ৫ অর্থের অভাব নয়, স্বপ্নই জিতল—বরকলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পাশে পার্বত্য মন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে ‘অপপ্রচার’ ও পাহাড়ের স্থিতিশীলতা: ইয়েন ইয়েনকে প্রশাসনের কড়া বার্তা বান্দরবানের লামায় অপহৃত ৬ রাবার শ্রমিককে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী রাঙ্গামাটির বাস টার্মিনালে গভীর রাতে আগুনে পুড়লো তিন দোকান

দেশে আবারও সক্রিয় হচ্ছে জঙ্গি নেটওয়ার্ক?

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৪ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- দেশে আবারও জঙ্গি তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কিনা—এমন প্রশ্ন এখন জনমনে। পুলিশ সদর দফতর থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানোর পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন বড় ধরনের হামলা না ঘটলেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, দেশে জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি; বরং নীরবে সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন কৌশলে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চলছে। চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, বড় ধরনের হামলা না থাকলেও উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। অনলাইনে যোগাযোগ, ছোট পরিসরে সংগঠন গঠন এবং ‘লো-প্রোফাইল’ কার্যক্রমের মাধ্যমে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই বিস্ফোরণে ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পাশের একটি সিএনজি গ্যারেজও ক্ষতির মুখে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন থেকে চার দিন পর একই স্থানে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে, এতে একজন আহত হন।

ঘটনার পর ধারাবাহিক অভিযানে মূল অভিযুক্ত জঙ্গি নেতা ও বোমা তৈরির কারিগর আল আমিন শেখসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত সংস্থা এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) জানিয়েছে, তাদের মধ্যে সাতজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

মাদ্রাসায় বিস্ফোরণে ভেস্তে যায় বড় হামলার পরিকল্পনা
এদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতরের গোপনীয় শাখা থেকে সারাদেশের পুলিশ ইউনিট প্রধানদের কাছে পাঠানো সতর্কতামূলক চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ জানান, পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনা তারা পেয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারে ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগ প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করছে।

পুলিশ সদর দফতরের চিঠিতে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতার হওয়া ইসতিয়াক আহম্মেদ সামীর সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা কিংবা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা হতে পারে। এমনকি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগার লক্ষ্য করেও পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

লস্কর-ই-তৈয়বার সংশ্লিষ্টতা?
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ইশতিয়াক আহম্মেদ সামীর পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর আগে, গত ৩১ মার্চ ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানি চরমপন্থি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার আট সদস্যকে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভারতীয় পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক। দুই মাস ধরে চালানো অভিযানে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা, কলকাতা, দিল্লি ও তামিলনাড়ু থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে প্রকাশিত সাত বাংলাদেশি হলো, বগুড়ার মিজানুর রহমান (৩২), জাহিদুল ইসলাম (৪০), মোহাম্মদ লিটন (৪০), মোহাম্মদ উজ্জ্বল (২৭) ও ওমর ফারুক (৩২), ঝালকাঠির মো. শাফায়েত হোসাইন (৩৪) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের রবিউল ইসলাম (২৭)।

আবার সক্রিয় হচ্ছে জঙ্গি নেটওয়ার্ক?
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন আর আগের মতো প্রকাশ্য সাংগঠনিক কাঠামোয় কাজ করছে না। বরং ছোট ছোট সেলভিত্তিক নেটওয়ার্কে কার্যক্রম পরিচালনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাদের প্রধান কৌশলের মধ্যে রয়েছে, অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশন, ‘লোন উলফ’ বা একক হামলাকারী তৈরি, স্বল্প সক্ষমতার বিস্ফোরক বা গোপন অস্ত্র প্রস্তুত এবং এনক্রিপ্টেড বা গুপ্ত অ্যাপের মাধ্যমে গোপন যোগাযোগ।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গিবাদ বর্তমানে দৃশ্যমান না থাকলেও ‘স্লিপার সেল’ ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও সতর্কতার প্রয়োজন
গত এক দশকে ধারাবাহিক আইনশৃঙ্খলা অভিযান জঙ্গি নেটওয়ার্ককে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। বিশেষ করে ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার পর সাঁড়াশি অভিযানে একাধিক সংগঠনের সাংগঠনিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় জঙ্গি তৎপরতা দৃশ্যত কমে আসে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডিজিটাল র‍্যাডিক্যালাইজেশন। ভার্চুয়াল স্পেস এখন উগ্রবাদী নিয়োগ ও মতাদর্শ বিস্তারের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সূচনা নব্বইয়ের দশকে আফগান যুদ্ধফেরত কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে ঘটে। ১৯৯২ সালের ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরবর্তীকালে ১৯৯৮ সালের এপ্রিলে শায়েখ আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) প্রতিষ্ঠিত হয়। সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই ছিলেন তার প্রধান সহযোগী। ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে সংগঠনটি প্রকাশ্যে শক্তি প্রদর্শন শুরু করে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা এবং ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলার প্রায় ৫০০ স্থানে একযোগে সিরিজ বোমা হামলা বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের ইতিহাসে বড় মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। ওই হামলার দায় স্বীকার করে জেএমবি।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান
পুলিশ সদর দফতর থেকে দেওয়া চিঠি ও গ্রেফতার হওয়া এক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী দুই সাবেক সেনা সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, এখনই এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। একটি গ্রেফতার বা প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বড় ধরনের উপসংহার টানা ঝুঁকিপূর্ণ। তদন্ত এগোলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। মিডিয়া ও সাধারণ মানুষ সবারই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা বা পরিবর্তনের সময় অনেক ধরনের তথ্য বা বিশ্লেষণ সামনে আসে। কিছু ক্ষেত্রে হাইপার টেনশন বা উদ্বেগ তৈরির চেষ্টা থাকতে পারে। কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনও কিছুই বলা উচিত নয়।

সাবেক সেনা সদস্যদের নাম আসায় বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে কোনও এক্সট্রিমিস্ট সংস্কৃতি নেই। বাহিনীর নিজস্ব পেশাদার কাঠামো ও শৃঙ্খলা অত্যন্ত শক্তিশালী। সশস্ত্র বাহিনী জাতি, ধর্ম বা মতাদর্শ নির্বিশেষে রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেয়। তাই এমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশের কিছু গণমাধ্যম বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। তবে আমাদের উচিত নিজস্ব তথ্য যাচাই করে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা। ভেতরের বা বাইরের প্রচারণা দেখে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

পুলিশের চিঠি ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতা জারি করে মূলত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে। এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। সতর্কতা মানেই বড় ধরনের হামলা আসন্ন- এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিষয়টি দেখছে। বাংলা ট্রিবিউন

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com
Website Design By Kidarkar It solutions