
রাঙ্গামাটি:- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে আলোচনা, মিলাদ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এসব আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা ও পরিচালক ইয়াছিন রানা সোহেলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিজিবি রাঙ্গামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম, এসইউপি, পিবিজিএম, পিএসসি। এতে গেস্ট অব অনার ছিলেন, রাঙ্গামাটি সদর সেনা জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল একরামুল রাহাত, পিএসসি। মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনান রাঙ্গামাটিতে বিজয়ের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অবঃ) মনীষ দেওয়ান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাঙ্গামাটি পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক শেখ লুৎফর রহমান, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি রনতোষ মল্লিক প্রমুখ। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের টিম মেম্বার সীমা ত্রিপুরার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সমন্বয়ক অ্যাড. জামাল হোসেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। দেশ মাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে যারা জীবন বাজি রেখে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন তারা নিঃসন্দেহে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপনের মাধ্যমে তাদের মনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবোধ তৈরি হবে। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হলে তারা দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
আলোচনা সভার পূর্বে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফসহ সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। আলোচনা শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিগণ।
উল্লেখ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে ২০ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বীর দর্পে লড়াই করে শত্রুদের পরাস্ত ও পিঁছু হটতে বাধ্য করেন তৎকালীন ইপিআরের ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ। তাঁর সাহসিকতার কারণে সেদিন প্রায় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে শত্রুদের ছোঁড়া মর্টার সেলের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে মুন্সী আব্দুর রউফের শরীর। আর এখানেই তাঁকে সমাহিত করেন বুড়িঘাট যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় যুবক দয়াল কৃষ্ণ চাকমা। এরপর এক নাগাড়ে দীর্ঘ ২৬ বছর তিনি বীরশ্রেষ্ঠের সমাধির দেখভাল করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ও বীরত্বপূর্ণ ভুমিকার জন্য মুন্সী আব্দুর রউফকে সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।